চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই সাথে অস্ত্র প্রদর্শনে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার আট দিন পর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও অস্ত্র আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মহড়ায় অংশ নেওয়া চার অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাদেক আলী (২৯), কামরুল হাসান (৩৯), মো. হানিফ (৩৪) এবং মো. রিপন (৩২)।
পুলিশ জানায়, আটক আসামিদের তথ্যমতে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ছিন্নমূল এলাকা ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, ৩টি কিরিচ, ১টি দা এবং ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মূল বিরোধটি ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে।
একই স্থানে ও একই সময়ে দু’পক্ষ কর্মসূচি ঘোষণা করায় বেশ কয়েক দিন ধরেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘাত এড়াতে পুলিশ প্রশাসন দু’পক্ষকে পৃথক সময়ে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও, কর্মসূচির দিন ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি হলে মুহূর্তেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও তিনটি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে একদল যুবককে অত্যন্ত বেপরোয়া ভঙ্গিতে প্রকাশ্যে শটগান, একনলা কাটা বন্দুক, পিস্তল ও দেশীয় রামদা উঁচিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেসব অস্ত্রধারীদের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের ও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্রধারীরা কিছু অস্ত্র হাতবদল করেছিল, যা উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীতাকুণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এমন কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকাটিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের মজুদ পুরোপুরি ধ্বংস করতে পুলিশ, ডিবি ও যৌথ বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;