সীতাকুণ্ডে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া সার ও তিনটি ট্রাকসহ দুই পাচারকারীকে আটকের পর থানায় কোনো মামলা না করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। ঘটনাটিকে গুরুতর চোরাচালান অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে সীতাকুণ্ড আমলী আদালত-০৭-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ সরেজমিন তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের (পূর্ব জোন, চট্টগ্রাম) আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকায় কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে ৭০০ বস্তায় মোট ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া সার এবং তিনটি ট্রাক জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সে সময় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও দীর্ঘ দিনেও সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা বা এজাহার দায়ের করা হয়নি। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুতর এই অপরাধের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপে বিলম্ব হওয়ায় আদালত এই কঠোর অবস্থান নেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই, প্রকৃত ঘটনাস্থল নির্ধারণ করে খসড়া মানচিত্র অঙ্কন, অভিযানে অংশ নেওয়া কোস্টগার্ড সদস্যদের নাম-পরিচয় ও ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড, জব্দতালিকা সংগ্রহ এবং আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি স্মারক তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করা। এছাড়া স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্টের ২৫-বি ধারার অপরাধের উপাদানগুলোও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করতে বলা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী কোস্টগার্ড কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা মালামাল জব্দ করলে তা দ্রুত নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ সম্প্রতি পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে কোস্টগার্ডের আইন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মাদক ও চোরাচালান রোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার পরও এমন গুরুতর বিষয়ে মামলা না হওয়ায় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন। এই আদেশের অনুলিপি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্টগার্ডের অধিনায়ক এবং সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;