চট্টগ্রাম বিভাগের সাত উপজলায় ‘সাব-জেল’ নির্মাণ করতে চায় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এতে করে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের চাপ কমবে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে জেলায় তিনটি, নোয়াখালীতে ও বান্দরবানে একটি এবং কক্সবাজারে দুটি কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলাগুলোতে চৌকি আদালত থাকার পরও আদালতে হাজিরা দিতে বন্দিদের নিয়মিত জেলা বা শহরের কারাগার থেকে আনা-নেওয়া করা হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও থাকে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগে ১২টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ৭৪২ জন, রাঙামাটি জেলা কারাগারে ১৪৫, বান্দরবান জেলা কারাগারে ১১৪ জন, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে ৮১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ৭৮০, কক্সবাজার কারাগারে ৮৩০, চাঁদপুর কারাগারে ৪৭৫, নোয়াখালী কারাগারে ৫০০, লক্ষ্মীপুর কারাগারে ২৯৫, ফেনী জেলা কারাগার-১ এর বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩৯২ ও কারাগার-২ এর ধারণ ক্ষমতা ১৭২ জন।
পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারগুলোতে গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি অবস্থান করেন। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার বন্দি থাকে।
উপজেলাগুলোতে সাব-জেল নির্মাণ করা হলে সেখানকার আদালতের আসামিদের সেখানেই রাখা সম্ভব হবে। এতে বন্দিদের আনা-নেওয়ার ভোগান্তি কমবে এবং জেলা শহরের কারাগারগুলোর ওপর চাপও কমবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া জানান, ব্রিটিশ আমলে বিচারিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উপজেলাগুলোতে চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়। সেখানে সাব-জেল নির্মাণের জন্য কারা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনাটা দেওয়া হয়েছে। চৌকি আদালতগুলোতে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই সেসব আদালতের আসামিদের শহরে না এনে সাব জেলে রাখা গেলে ভোগান্তি কমে আসবে। এতে করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কম থাকবে এবং কর্মঘণ্টার অপচয় রোধ হবে। পরিকল্পিতভাবে এসব কারাগার নির্মাণ করা গেলে বন্দিদের ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি হবে এবং জেলা শহরের কারাগারগুলোর ওপর চাপ কমবে।