সীতাকুণ্ডের পীর বারআউলিয়া দরগাহ মসজিদে আসরের নামাজের সময় এক অসাধারণ বিনয়, আদব ও আখলাকের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশিষ্ট সুফি সাধক, আওলাদে রাসুল (দ.) পীর আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.)। পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় ইমামের অনুরোধে তিনি আসরের নামাজের ইমামতি পরিচালনা করেন।
জানা যায়, ফেনী ও কুমিল্লার দ্বীনি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে আসরের নামাজের সময় হলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডস্থ ঐতিহ্যবাহী পীর বারআউলিয়া দরগাহ মসজিদে উপস্থিত হন আল্লামা সাবির শাহ। সেখানে তাঁর ইমামতি করার পূর্বনির্ধারিত কোনো সূচি ছিল না। মসজিদে উপস্থিতি টের পেয়ে শত শত মুসল্লি ও ভক্ত-মুরিদান তাঁকে ইমামতির স্থানে যাওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানান।
এমন পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের বিনয় প্রকাশ করে অত্যন্ত নম্রভাবে উর্দু ভাষায় জানতে চান, “ইমাম কোথায়?” পরবর্তীতে মসজিদের সম্মানিত মূল ইমাম নিজেই যখন পরম শ্রদ্ধায় হুজুরকে ইমামতি করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান, তখন তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আসরের নামাজ আদায় করান।
এই সময় হুজুর পীর আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.) দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সমপ্রীতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও ভক্ত-অনুরাগীরা আওলাদে রাসুলের পেছনে নামাজ আদায় করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া প্রকাশ করেন। উপস্থিত সবাই এই ঘটনাকে কেবল একটি সাধারণ নামাজের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একজন খাঁটি আল্লাহওয়ালা পীর ও আলেমের বিনয়, আখলাক এবং সুন্নতি আদবের এক অনুপম শিক্ষা হিসেবে দেখছেন।
প্রসংগত: পীর আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.) হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর ৪০তম প্রত্যক্ষ বংশধর এবং প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর সুযোগ্য সন্তান। তিনি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অন্যতম রূপকার ও পৃষ্ঠপোষক। প্রতি বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘জশনে জুলুস’-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচিতে তিনি লাখো সুন্নি জনতার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;