দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগের মধ্যেই এক লাফে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে, যা সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। একই সাথে সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই ঘোষণা এমন একসময়ে এল যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে এবং ভোক্তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না। অনেক স্থানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন দর কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য তলবসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বিইআরসি।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন এবং আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি।
সিলিন্ডারের পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হলেও এর সীমিত সরবরাহের কারণে সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাজারের এই অস্থিরতা রোধে কৃত্রিম মজুতদারি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলওএবি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;