ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সারা দেশে একযোগে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ‘ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, একটি সভ্য ও মানবিক সমাজে কোনো নারী বা শিশু যেন ভয়, নির্যাতন কিংবা হয়রানির শিকার না হয়—এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ এবং সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ বা প্রতিবাদ নয়; বরং অপরাধের নেপথ্য কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরই মূল গুরুত্ব দিতে হবে।
পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্মিলিত ভূমিকার জোর: ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ মনে করে, নারীদের সুরক্ষা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া এই ব্যাধি নির্মূল করা অসম্ভব।
ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ ও আইনি সহায়তার দাবি: সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে তাকে উল্টো দোষারোপ করা (ভিকটিম ব্লেমিং), তার পোশাক, চলাফেরা বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসিত প্রশ্ন তোলা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে।
ভিকটিমকে দোষারোপ না করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা, মানসিক কাউন্সেলিং ও বিনামূল্যে আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানানো হয়।
অপরাধীর রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় নয়, আইনের প্রয়োগই মুখ্য: ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী বা যে রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয়েরই হোক না কেন—অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বারবার এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
একই সঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি, ভিডিও, পরিচয় বা ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে গুজব না ছড়ানো এবং কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়—সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
তরুণদের প্রতি আহ্বান ও জরুরি দিকনির্দেশনা: অন্যায় দেখে নীরব না থেকে দেশের তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। নারীদের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি (Consent) এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনটি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে মূলত ৫টি মূল বার্তা দিয়েছে: ১. অন্যায় দেখলে নীরব না থেকে প্রতিবাদ করুন। ২. ভুক্তভোগীকে দোষ না দিয়ে তার পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ান। ৩. অপরাধী যে-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি তুলুন। ৪. গুজব বা অসত্য তথ্য না ছড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করুন। ৫. আইন নিজের হাতে না তুলে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করুন।
একটি মানবিক, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের এই সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ও এলাকাভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;