জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সপ্তম রায়।
যাঁদের মৃত্যুদণ্ড ও সাজা দেওয়া হয়েছে: ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় দণ্ডিত অন্যরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। রায়ের সময় এই সাতজনই পলাতক ছিলেন।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ: রায়ে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা (সাদ্দাম ও ইনান) ছাড়া বাকি পাঁচজনের অর্ধেকের সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, রোম চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান থাকলেও এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ৩০ দিন আপিলের সময়সীমা পার হওয়ার পর সরকার এই রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া: গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি একে জুলাইয়ের শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারী মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে রায় ঘোষণার পরপরই দুপুর সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের প্রবেশপথে কে বা কারা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। শাহবাগ থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;