চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে অপহৃত পৌনে দুই বছর বয়সী শিশু সাবিহা নূরকে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)। এ অপহরণ চক্রের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতকানিয়া এলাকার এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একই সাথে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সাবিহা নূর বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন টিটুর মেয়ে। পরিবারটি বর্তমানে চান্দগাঁওয়ের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
এসআরবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টার দিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা সংলগ্ন মদিনা ভাতঘরের পেছনের বাসা থেকে কৌশলে শিশু সাবিহাকে চুরি করে নিয়ে যায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর আমির হোসেন। শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। পরবর্তীকালে সাবিহার বড় চাচা বাদী হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পরই প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান শুরু করে এসআরবি’র একটি চৌকস দল। অপহরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায়, ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে আমির হোসেনকে হেফাজতে নেয় আভিযানিক দলটি এবং তার কোল থেকেই নিরাপদে শিশু সাবিহাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর আমির পুলিশকে জানায়, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শিশুটিকে তার মামা-মামি দিলোআরা বেগম ও মো. মোজাম্মেল হোসেনের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নগরীর স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে দিলোআরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন জানান, শিশু সাবিহাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত সাতকানিয়ার ওই দম্পতি ও হেফাজতে থাকা কিশোরকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;