‘শিশু-কিশোর বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সীতাকুণ্ডে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০৬ পালিত হয়েছে। কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, কন্যাশিশু কেবল পরিবারের নয়, তারা পুরো দেশ ও জাতির সম্পদ। তাদের বৈষম্যহীন সুযোগ ও সুরক্ষা প্রদান করা সমাজের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রথমে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে যেকোনো প্রকার বৈষম্য দূর করে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বাল্যবিয়ে পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে হবে। কন্যাশিশুরা যাতে তাদের স্বপ্ন পূরণ করে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের ক্রেডিট সুপারভাইজার মোহাম্মদ দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে এবং পাতা দে বৃষ্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তপন চন্দ্র বর্মন ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সীতাকুণ্ডের দুটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিপুন রায়। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশি সূত্রধর। আর যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হিমু কর্মকার এবং জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মৃত্তিকা শীল। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরী, সাংবাদিক নওশীন আল মাহমুদ ও এম জামশেদ আলম। এ ছাড়া বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এদিকে, কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ড উপজেলায় কর্মরত কোনো নারী কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে হলরুমে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে বেশ গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত নারী কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ক্রেডিট সুপারভাইজার মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর প্রধান ও নারী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে চিঠি ও দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তারা কেন উপস্থিত হননি, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহমিনা তামান্না জানান, তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ছুটি ও বিশ্রামে থাকায় সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে অন্যান্য নারী কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
খালেদ । পোস্টকার্ড ;