• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে সবজি চাষের ক্ষতি পুষিয়ে সোনালি আখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন না ফেরার শর্তে পুলিশ পাহারায় চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য সীতাকুণ্ডের হত্যা মামলার পলাতক আসামি ফটিকছড়িতে গ্রেপ্তার সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়ীয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন সম্পন্ন, ইউপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা সীতাকুণ্ডে ৭ টন ইলিশ জব্দ ও পৌনে ৪ লাখ টাকা জরিমানা, ধ্বংস ১ লাখ মিটার জাল নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান চুয়েটে: অবরুদ্ধ উপাচার্য, সর্বাত্মক অসহযোগের ঘোষণা সীতাকুণ্ডে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, চিত্রাঙ্কনে ৪ শিক্ষার্থীদের সাফল্য সীতাকুণ্ডে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’র নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি,৩০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুট

সীতাকুণ্ডে চার শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ প্রচেষ্টা প্রতিহতের ঘোষণা

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ৭৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জোড়আমতল পরিত্যক্ত রেল কলোনি থেকে প্রায় চার শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের চক্রান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অসাধু কর্মকর্তাদের মদদে অনৈতিকভাবে জমিটি একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে এ ধরনের যেকোনো উচ্ছেদ প্রচেষ্টা সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয়রা।

রেল কলোনিতে উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েক শত নেতাকর্মী সরেজমিনে কলোনির প্রতিটি ঘরে যান এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল ও সুখ-দুঃখ বিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “আপনারা পূর্বেও সীতাকুণ্ডেরই বাসিন্দা ছিলেন। বঙ্গোপসাগরে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার পর আপনারা জোড়আমতলে রেলের মালিকানাধীন এ পরিত্যক্ত জায়গায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। এখন আপনাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার বা রেল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে আপনাদেরকেই এই জমি বন্দোবস্ত দিতে হবে, কোনো কোম্পানিকে নয়। জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে আসলে জামায়াতে ইসলামী আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা দেবে। আমরা কোনো অন্যায় উচ্ছেদ মানব না; প্রয়োজনে তা প্রতিহত করা হবে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. তাহের, কুমিরা ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন, জামায়াত নেতা ফারুক মোনাদিন, মাওলানা মো. খালেদসহ সোনাইছড়ি ও কুমিরা ইউনিয়নের জামায়াত-ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা–চট্টগ্রাম রেললাইনের পুরোনো সেতু ইয়ার্ড এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে যায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সদস্যরা জোড়আমতল বাজার এলাকায় অবস্থান নিলে কলোনিজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে পৌঁছালে কলোনিবাসীরা তাঁদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে রেল কর্মকর্তা স্থানীয়দের অবিলম্বে এলাকা খালি করার নির্দেশ দিলে উপস্থিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তাঁকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী স্থানীয় ১০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে স্থানীয়দের জোরালো দাবি ও প্রতিবাদের মুখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাসিন্দাদের এক মাস সময় দিয়ে অভিযান না চালিয়েই ফিরে যায়।

কলোনির বাসিন্দারা জানান, তাদের অনেকেই ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই কলোনিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর এখানে বসবাস করলেও সরকার তাঁদের নামে জমি বন্দোবস্ত দেয়নি। কলোনির অধিবাসী রোকসানা ও রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনো জায়গা-সম্পদ নেই। এখান থেকে উচ্ছেদ করা হলে আমরা কোথায় যাব? উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে আমরা এই জায়গা ছাড়ব না।” বৈঠকে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইফতেখার আহম্মদ জানান, কলোনিতে বসবাসকারী প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবারই নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সাবেক রেল কর্মচারী। বাসিন্দাদের প্রাথমিক দাবি ছিল অন্তত ছয় মাসের সময় ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরীর সই করা একটি উচ্ছেদ নোটিশে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে পুলিশ গিয়েছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে ও ক্ষতিপূরণের দাবির কারণে পরবর্তীতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের এক মাসের সময় দিয়ে অভিযান আপাতত স্থগিত করেছে। তবে উচ্ছেদে আসা রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অবৈধ দখলের উচ্ছেদে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো আইনি নিয়ম নেই।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..