জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছিল দেশের প্রথম নিবেদিত সাইকেল ট্র্যাক। চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা পতেঙ্গায় গড়ে তোলা এই ট্র্যাকার লক্ষ্য ছিল নগরবাসীকে পরিবেশবান্ধব ও সুস্থ বিনোদনের একটি নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া। কিন্তু চালুর সুফল পেতে না পেতেই নেমে এসেছে দখলদারির ছায়া। উদ্বোধনের মাত্র ১২ ঘণ্টা পার হতে না হতেই সাইকেল ট্র্যাকটি রূপ নিয়েছে চার চাকার গাড়ির পার্কিং জোনে।
যে ট্র্যাকে অবাধে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা সাইকেলপ্রেমীদের, সেখানে এখন সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হচ্ছে ছোট-বড় গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা ও দর্শনার্থীরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন— আজ যেভাবে প্রাইভেট কার ও চার চাকার যানবাহন পার্কিং করা শুরু হলো, কাল হয়তো সেখানে হকারদের পশরা বসবে। আর এভাবে ধীরে ধীরে একটি অনন্য ও সুন্দর উদ্যোগ দখলদারির কবলে পড়ে হারিয়ে যাবে।
জনসাধারণের জন্য যেকোনো আধুনিক নগর অবকাঠামো বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা নিঃসন্দেহে একটি কঠিন কাজ। তবে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, তা বাস্তবায়নের চেয়েও বহুগুণ কঠিন হলো তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও তদারকি করা। দেশের প্রথম এই সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি এভাবে অবৈধ দখলের শিকার হয়, তবে ভবিষ্যতে জনস্বার্থে নতুন কোনো ভালো উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহই নষ্ট হয়ে যাবে।
ভালো কিছু শুরু করা এ দেশে যেমন চ্যালেঞ্জিং, সেই ভালো উদ্যোগ ধরে রাখা যেন আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সচেতন নাগরিক ও সাইকেলারদের একটাই আকুল দাবি— সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সাইকেল ট্র্যাকটিকে অবিলম্বে চার চাকার গাড়ি ও অনাকাঙ্ক্ষিত দখলমুক্ত করে শুধুমাত্র সাইকেল চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ রাখা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অব্যবস্থাপনা আর নজরদারির অভাবে এত সুন্দর একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেন নষ্ট হয়ে না যায়, এটাই এখন পতেঙ্গায় আগত দর্শনার্থী ও নগরবাসীর প্রত্যাশা।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;