• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জেলা পরিষদ সড়ক কঙ্কালসার: চরম ভোগান্তিতে পথচারী সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জমি জালিয়াতি ঘটনায় প্রধান আসামি হাছিনা বেগম কারাগারে, স্বামীসহ চক্রের সদস্যরা অধরা শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ সংকলন ‘শিশুসাহিত্য’ বিআইটিআইডির দরপত্রে বৈষম্যমূলক শর্তের অভিযোগ, ঠিকাদারদের ক্ষোভ ২৫টি রাইড নিয়ে সীতাকুণ্ড সিকিউর সিটিতে শুরু হলো শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র ‘ডিজনী পার্ক’ আকবরশাহ থানায় হাসি ফুটল ১০ মোবাইল মালিকের, উদ্ধার হওয়া ফোন হস্তান্তর সীতাকুণ্ডে ১১ বছরের মানবিক পথচলা, সরকারি নিবন্ধনে নতুন উদ্দীপনায় সীতাকুণ্ড যুব ব্লাড ব্যাংক সীতাকুণ্ডে সবজি চাষের ক্ষতি পুষিয়ে সোনালি আখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন না ফেরার শর্তে পুলিশ পাহারায় চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য সীতাকুণ্ডের হত্যা মামলার পলাতক আসামি ফটিকছড়িতে গ্রেপ্তার

সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জমি জালিয়াতি ঘটনায় প্রধান আসামি হাছিনা বেগম কারাগারে, স্বামীসহ চক্রের সদস্যরা অধরা

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ৭২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে জাল ওয়ারিশ সনদ প্রস্তুত, সরকারি কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় প্রধান আসামি মোছা. হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনীকে (৬৪) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে মামলার অপর এজাহারনামীয় আসামি তাঁর স্বামী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৬৬) এবং নকল ওয়েবসাইট তৈরিতে জড়িত মূল সাইবার চক্রের অজ্ঞাতনামা সদস্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭-এর বিচারক মো. সাখাওয়াত হোসেন গ্রেপ্তারকৃত হাছিনা বেগমকে কাস্টডি ওয়ারেন্টের (Custody Warrant) মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর এ নির্দেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সীতাকুণ্ড মডেল থানার পৃথক দুই তদন্ত কর্মকর্তার যৌথ অভিযানে সীতাকুণ্ডের শিবপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিম শিবপুর এলাকার বাসিন্দা মরহুম মো. খায়ের উল্লাহর দুই কন্যা—জ্যেষ্ঠ কন্যা হাছিনা বানু এবং কনিষ্ঠ কন্যা মোছা. হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনী। খায়ের উল্লাহর মৃত্যুর পর পৈতৃক ৫৭.৪৫ শতক সম্পত্তি (০.৫৭৪৫ একর) দুই কন্যার মধ্যে বণ্টন হওয়ার কথা থাকলেও, কনিষ্ঠ কন্যা হাছিনা বেগম সম্পূর্ণ সম্পত্তি এককভাবে আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হাছিনা বেগম তাঁর স্বামী দেলোয়ার হোসেন ও অজ্ঞাতনামা সাইবার অপরাধীদের সহায়তায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার মূল সরকারি তথ্যপোর্টাল (`sitakunda.prottoyon.net`)-এর আদলে একটি হুবহু নকল বা ক্লোন ওয়েবসাইট (`sitakunda.prottoyon.com-web.l7l0.cfd/…`) তৈরি করেন। ওই ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (সনদ নং-১০৪৪৪৬) একটি কিউআর (QR) কোডযুক্ত জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়। এতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি-র স্ক্যান করা সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই জাল সনদটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দাখিল করে শিবপুর মৌজার আরএস/বিএস দাগভুক্ত ৫৭.৪৫ শতক জমির একক নামজারি খতিয়ান (নং ২০২৬-১০০০৩৩) প্রস্তুত করা হয়, যার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কন্যা হাছিনা বানুকে তাঁর ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পক্ষ পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পৌরসভার নিজস্ব তদন্তে উঠে আসে যে, সনদটি সরকারি কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হয়নি, বরং ক্লোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড পৌরসভা স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৮ (তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)-এর মাধ্যমে সনদটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এরই প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ হাছিনা বানুর পক্ষে তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রামের পৃথক দুটি আদালতে নালিশি আবেদন জানান। এর মধ্যে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ কাজী মিজানুর রহমান জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর বিভিন্ন ধারায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসিকে মামলা (নং ৫৬/২০২৬) রুজু ও আগামী ২৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, আমলী আদালত-৭-এ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় দায়ের করা সি.আর. মামলাটি (নং ৫/২০২৬) এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫৬ নম্বর মামলার তদন্তভার পান এসআই মো. মাহমুদুল হাসান এবং দণ্ডবিধির ৫ নম্বর মামলার তদন্তভার পান এসআই মো. কামরুজ্জামান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম বলেন,সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে সিল-স্বাক্ষর জাল করা একটি জঘন্য অপরাধ। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা আদালতের প্রতি আস্থা পেয়েছি। তবে ঘটনার পেছনে থাকা তাঁর স্বামী দেলোয়ার হোসেনসহ নেপথ্যের যারা আছেন তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সরওয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, সরকারি পোর্টালে ডিজিটাল জালিয়াতি রাষ্ট্রীয় সেবার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। আদালতের নির্দেশে দুটি মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামি জেলে গিয়েছেন। এখন ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভুয়া পোর্টালের নির্মাতা ও পর্দার আড়ালের সাইবার চক্রকে শনাক্ত করা জরুরি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অপর পলাতক আসামি দেলোয়ার হোসেন ও ওয়েবসাইট তৈরির কারিগরদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো জালিয়াতি চক্রটির আসল রূপ উদ্ঘাটন করা হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..