চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদলকর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) হত্যা মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং একটি দেশীয় একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আরিফ হোসেন, ফখরুল, মান্নান, ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ ও নুর আহমদ রনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় সাদ্দামের অফিসের সামনে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে তারেক হোসেন বাপ্পি এবং অলিনগর এলাকার ইউসুফের ছেলে তাফসির আলম শাওন (২২) গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অপর তরুণ শাওন চমেক হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়বকুণ্ড এলাকায় সাগরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। মূলত বালু মহালে আধিপত্য বিস্তার ও বিরোধের জের ধরেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। অবশেষ মূল আসামিসহ ৬ জনকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।