চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অত্যন্ত সুরক্ষিত ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উল্টো পাশে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বাড়িতে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র ডাকাত দলটি বাড়ির গৃহবধূদের জিম্মি করে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আলামত নষ্ট করতে যাওয়ার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর (হার্ডডিস্ক)-ও সাথে করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল আলম চৌধুরীর বাসভবনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল আলম চৌধুরী জানান, গভীর রাতে ৬-৭ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত বাড়ির পেছনের বারান্দার (ব্যালকনি) গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা পরিবারের নারী সদস্যদের মাথায় পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে আলমারি ও লকার ভেঙে গচ্ছিত প্রায় ৩০ ভরি সোনার গহনা এবং নগদ সাত লাখ টাকা লুট করে নেয়।
তিনি আরও বলেন, ডাকাতির সময় আমি পাশের রুমে ঘুমে ছিলাম। ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর পরিবারের চিৎকারে ঘুম ভাঙলে বিষয়টি বুঝতে পারি। অপরাধ আড়াল করতে ডাকাতরা যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কটিও খুলে নিয়ে যায়।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক বিপরীতে এই ধরনের দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত এলাকায় এমন ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসময় খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা ও ফৌজদারহাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। সিসিটিভি সিগন্যাল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে আমাদের বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;