চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ফকির সংযোগ সড়ক, যা স্থানীয়ভাবে বেঙ্গল ব্রিকস রোড নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। সড়কজুড়ে খানাখন্দ, কাদা ও পানি জমে থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, আবার শুষ্ক মৌসুমেও খানাখন্দের কারণে ভোগান্তি কমে না।
সম্প্রতি সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও জমে থাকা পানি দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পথচারীদেরও সতর্কভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সড়কের আশেপাশে টিকে ফ্যাক্টরি ও বেঙ্গল ব্রিকস ফ্যাক্টরি সহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গোডাউন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সড়কের স্থায়ী সংস্কারে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে সড়কের ভয়াবহ চিত্র ও তাঁদের ভোগান্তির কথা জানা যায়। স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে পাঠাতে আতঙ্কে থাকতে হয়। বৃষ্টি হলে কাদা-পানির কারণে পথচলা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিশুদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায় এবং খানাখন্দে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করার আকুল আকুতি জানান তিনি।
একই সুর স্থানীয় এক বাসিন্দার কণ্ঠেও। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। খানাখন্দ আর জমে থাকা পানির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের আকুল দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যেন দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিদিন যাতায়াতকারী কর্মজীবী মহিউদ্দিন জানান, প্রতিদিন কাজের তাগিদে এই রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে তাঁদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। রাস্তার বড় বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে যানবাহন ও পথচারী উভয়েই মারাত্মক দুর্ঘটনায় পতিত হন। তাই সাময়িক মেরামতের নামে তড়িঘড়ি না করে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কার কাজের দাবি জানান তিনি।
ভোগান্তির কথা তুলে ধরে স্থানীয় এক সিএনজি ও অটোরিকশা চালক পারভেজ বলেন, রাস্তার যে করুণ হাল, তাতে গাড়ি চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। সারাদিন খাটুনি করে যে টাকা ভাড়া পাওয়া যায়, তার বড় একটি অংশই গাড়ি মেরামত করতে চলে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন তাঁর ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে জানান, ফকির সংযোগ সড়কটি এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাস্তার এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে মালামাল পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি কাদা-পানি ও গর্তের ভয়ে অনেক ক্রেতা বাধ্য হয়ে অন্য পথের বাজারে চলে যান, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসার ওপর।
রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী সাইমুল বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। খানাখন্দে জমে থাকা নোংরা পানি দ্রুতগতিতে আসা গাড়ির চাকায় ছিটকে এসে গায়ে পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় ক্লাস মিস করতে হয়। তিনি অনতিবিলম্বে রাস্তাটি পাকা ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ টেকসই ভাবে নির্মাণের দাবি জানান।
তরুণ উদ্যোক্তা সাবরিনা সুলতানা জেনিফা জানান যে, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই তাঁর তৈরি অনেক বড় বড় কেক নষ্ট হয়ে যায়। তিনি এই রাস্তার দ্রুত সংস্কার চান ।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, সলিমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় প্রশাসন ও সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি সড়কের টেকসই উন্নয়নে এলাকার সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, ফকির সংযোগ সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়; এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের চরম দাবি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;