• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জেলা পরিষদ সড়ক কঙ্কালসার: চরম ভোগান্তিতে পথচারী সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জমি জালিয়াতি ঘটনায় প্রধান আসামি হাছিনা বেগম কারাগারে, স্বামীসহ চক্রের সদস্যরা অধরা শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ সংকলন ‘শিশুসাহিত্য’ বিআইটিআইডির দরপত্রে বৈষম্যমূলক শর্তের অভিযোগ, ঠিকাদারদের ক্ষোভ ২৫টি রাইড নিয়ে সীতাকুণ্ড সিকিউর সিটিতে শুরু হলো শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র ‘ডিজনী পার্ক’ আকবরশাহ থানায় হাসি ফুটল ১০ মোবাইল মালিকের, উদ্ধার হওয়া ফোন হস্তান্তর সীতাকুণ্ডে ১১ বছরের মানবিক পথচলা, সরকারি নিবন্ধনে নতুন উদ্দীপনায় সীতাকুণ্ড যুব ব্লাড ব্যাংক সীতাকুণ্ডে সবজি চাষের ক্ষতি পুষিয়ে সোনালি আখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন না ফেরার শর্তে পুলিশ পাহারায় চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য সীতাকুণ্ডের হত্যা মামলার পলাতক আসামি ফটিকছড়িতে গ্রেপ্তার

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জেলা পরিষদ সড়ক কঙ্কালসার: চরম ভোগান্তিতে পথচারী

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ৩২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০নং সলিমপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর ও ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণাংশ সংযোগকারী ঐতিহাসিক ও ব্যস্ততম ‘সলিমপুর জেলা পরিষদ সড়কটি’ এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো প্রকার স্থায়ী সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি চরম অবহেলায় পড়ে থেকে তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। সড়কটির বিস্তৃতি জাফরাবাদ পোস্ট অফিসের পাশ দিয়ে শুরু হয়ে সলিমপুরের দক্ষিণ অংশ স্পর্শ করে সোজা বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যন্ত চলে গেছে। তবে বর্তমানে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অবস্থা এতোটাই নাজেহাল যে, সেখানে যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় মরণফাঁদ ও খানাখন্দ। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলজট সৃষ্টি হয় এবং খানাখন্দগুলো পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে পথচারীরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। বৃষ্টির দিনে পুরো পথ কর্দমাক্ত হয়ে হাঁটাচলার সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। আর শুষ্ক বা গ্রীষ্মকালে ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়—পুরো রাস্তা ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে আক্ষরিক অর্থেই এক ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়। ধূলিদূষণের ফলে আশপাশের বাসাবাড়ি ও পথচারীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন; বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি, কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দুই স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এলাকায় অবস্থিত একটি দাখিল মাদ্রাসা এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু-কিশোরদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই কাদা-পানিময় সড়ক অতিক্রম করে ক্লাসে যেতে হয়। বর্ষার দিনে পোশাক-পরিচ্ছদ ও বই-খাতা কাদাপানিতে ভিজে গিয়ে প্রায়ই শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। কোনো আশঙ্কাজনক রোগী বা গর্ভবতী নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঢুকতে চায় না, ফলে চিকিৎসা সময়মতো না পেয়ে রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

সড়কের সার্বিক দুরবস্থা নিয়ে সিএনজি চালক রফিক আহমেদ বলেন, “এই রাস্তা দিয়া গাড়ী চালানো মানে এক কথায় অসাধ্য কাজ। গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত গাড়ির এক্সেল ও স্প্রিং ভেঙে যায়। যে টাকা আয় করি, তার অর্ধেকের বেশি চলে যায় গাড়ী মেরামতে। রোগী বা গর্ভবতী নারী গাড়িতে থাকলে ভয়ে আস্তে আস্তে চালাতে হয়, তাও ঝাকুনিতে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। অনেক চালক এখন এই রোডে আসতেই চায় না।”

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান, “ছোট ছোট শিশুরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এই শিশুদের প্রতিদিন যে কষ্টের মধ্য দিয়ে স্কুলে আসতে হয়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাদাপানিতে পিছলে পড়ে বাচ্চারা হাত-পা ভেঙে কাঁদে, জামাকাপড় নষ্ট করে ফেলে। আর গ্রীষ্মকালে ধুলোবালির কারণে শ্রেণিকক্ষে টিকে থাকা দায় হয়। একটি সড়ক সংস্কারের অভাবে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”

নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে স্থানীয় কালুশাহ ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিব আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলে, “আমাদের সহপাঠীরা বৃষ্টি হলেই স্কুলে আসতে পারে না। রাস্তার মধ্যে গর্তে পানি জমে থাকে, বোঝা যায় না কোথায় গভীর গর্ত। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের এই কষ্ট দূর করতে দ্রুত রাস্তাটি সুন্দর করে বানিয়ে দেওয়া হোক। মাঝে মাঝে গাড়ি যাওয়ার সময় গাড়ীর চাকা গর্তে পড়ে এবং রাস্তার সব ময়লা পানি গায়ের উপর পড়ে। এই সময় অনেক নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফকিরহাট পশ্চিম পাড়া এলাকার স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক ও বিশিষ্টজন জানান, “নির্বাচন আসলেই জনপ্রতিনিধিরা আসেন, বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। কয়েকবার কিছু বাহ্যিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসেনি, সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে আমরা শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের সুনজরের আশায় বসে থাকলে আরও এক দশকেও এই রাস্তার কোনো সমাধান হবে বলে মনে হয় না।”

সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করে লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার জহুরুল আলম বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতা ও মৌলিক সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি ভালো ও উন্নত সড়ক কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক যোগাযোগের মূল চালিকাশক্তি। উন্নত অবকাঠামো ছাড়া কোনো অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যদিকে অবহেলিত ও ভাঙাচোরা সড়ক একটি পুরো এলাকার জীবনযাত্রাকে স্থবির করে ফেলে এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেয়। আশা প্রকাশ করি, দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার হবে।”

দীর্ঘদিনের এই চরম অবহেলা ও দুর্ভোগের অবসান চান সলিমপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ। তারা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই সড়ক টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সে দাবি জানান। এলাকাবাসীর একটাই জোরালো দাবি—আর কোনো ফাঁকা বুলি বা প্রতিশ্রুতি নয়, অনতিবিলম্বে ‘সলিমপুর জেলা পরিষদ সড়ক’ পুনর্নির্মাণ করে হাজার হাজার মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা হোক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..