রেলওয়ের জায়গা উচ্ছেদ করতে গিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে বসবাসরত তিন শতাধিক পরিবারের সদস্যরা উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন এবং সময় দাবি করেন।
জানা যায়, সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশে কেওয়াইসিআর ইন্ডাস্ট্রির পাশে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যান ম্যাজিস্ট্রেটসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এ সময় স্থানীয়রা উচ্ছেদে বাধা দেন এবং বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি জানান।
বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তাদের পরিবার নিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়তে হবে। তাই মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা উচ্ছেদ স্থগিত করে সময় দেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে আইন মেনেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে কুমিরা পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় রেলভূমিতে অবৈধ টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অবৈধ দখল পরিত্যাগ করে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলভূমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।
রেলওয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, কুমিরা স্টেশন এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী রেললাইনের পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় স্থানীয় লোকজন অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাদের আগে একাধিকবার স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করার জন্য বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
খালেদ । পোস্টকার্ড ;