কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে নির্লিপ্তভাবে পুকুরে গোসল করেছিল ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। ধানক্ষেতে ওই কিশোরীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখেই কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল সারে সে। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার চালক সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তহিম করা এই রোমহর্ষক ঘটনার জট খুলেছে পুলিশ ও ডিবির যৌথ দল।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর চরপাড়া গ্রামের ধানক্ষেতের পাশ থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমীনের পরিবার বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। ঘটনার রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। যাত্রাপথে শর্টকাটে পৌঁছানোর অজুহাতে বিজরা বাজারের নির্জন এলাকায় নিয়ে সিএনজির ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় ঘাতক চালক। বিপদের গন্ধ পেয়ে কিশোরী পালানোর চেষ্টা করলে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে সুমন। পরে ধানক্ষেতে উপুড় করে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ড শেষে তাজমীনের ব্যবহৃত একটি আইফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় সুমন। পরে অন্য একটি অটোরিকশা নিয়ে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুর পাড়ের জঙ্গলে মোবাইলটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার সুমনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাখরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে ফোনটি ও ধানক্ষেত থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তাজমীন তার বাবাকে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠালেও তিনি তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাননি। ভোরের দিকে তা দেখে ওই এলাকায় খুঁজতে যান তিনি। এছাড়া ৪ অক্টোবর থেকে তাজমীন নিখোঁজ থাকলেও পরিবার থানায় কোনো জিডি করেনি, যার কারণে ওই চার দিন সে কোথায় ছিল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফরেনসিক রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙখলা বাহিনী।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;