এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মধ্যরাতের ঘোষণায় তৈরি হওয়া বহুমুখী ধাক্কা এখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে বাস, মিনিবাস ও হিউম্যান হলারে অতিরিক্ত টাকা ভাড়া আদায় শুরু হলে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র কথা-কাটাকাটি ও অসন্তোষ। নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সার্বিক সংকটে স্থির আয়ের মানুষের যাতায়াত ব্যয়ই শুধু বাড়েনি, এর প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজার ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বিপিপির পুরোনো মুনাফার অর্থ সংকটকালে কাজে লাগিয়ে এই লাফালাফি এড়ানোর পরামর্শ দিলেও সরকার পক্ষ থেকে তা অনিবার্য বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, ভোক্তা সংগঠন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।
এই বাড়তি ব্যয়ের এই নিষ্ঠুর চাপ কতটা গভীর, তার বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেনের কথায়। ছোট দোকান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠের কাজ করেও দুই সন্তানের পড়ালেখা ও সংসার সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া সাজ্জাদের আক্ষেপ—‘এই বয়সে ব্যয় আরও বাড়লে কোথায় যাব জানি না, গ্রামে যাওয়ারও অবলম্বন নেই।’ দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিটি পরিবারে এখন এই অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘশ্বাস ভর করেছে।
পরিবহন ব্যয় ও জীবনযাত্রার এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক কিংবা বাজার মনিটরিংয়ের জোরালো দাবি থাকলেও প্রান্তিক মানুষের পকেটে যে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা শিগগির দূর হওয়ার নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকস্মিক এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি জনদুর্ভোগ চরমে ঠেকায়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতেও নেতিবাচক ছায়া ফেলবে।
খালেদ । পোস্টকার্ড ;