চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদুতিক শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনে একটি মার্কেটের অন্তত সাতটি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলী জামাই বাজার এলাকার আলী মার্কেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জুম্মার নামাজের ঠিক আগে আলী মার্কেটের নিচতলার একটি কাপড়ের দোকান থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশে থাকা অন্যান্য কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল পরিমাণ সুতি ও সুতাযুক্ত রেডিমেড পোশাক এবং দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের চন্দনপুরা এবং লামার বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার কর্মীদের প্রাণপণ চেষ্টায় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন আর ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরবর্তীতে বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
আগুনে মার্কেটের নিচতলার ৭টি কাপড়ের দোকান এবং ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। জুম্মার নামাজের সময় হওয়ায় অনেক দোকানদারই কেনাবেচা বন্ধ রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ফলে হঠাৎ লাগা এই আগুনে দোকানের মালামাল সরানোরও কোনো সুযোগ পাননি ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগুনে আনুমানিক কত টাকার ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত ও সার্বিক হিসাব সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো হবে।
ঘটনাস্থলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি টিম সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উদ্ধার কাজে সহযোগিতা প্রদান করে। হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সর্বস্ব হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;