• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
কম্বোডিয়ান প্রেমিকাকে বিয়ের জন্য সকালে প্যারোলে মুক্তি,রাতে ফের কারাগারে গ্যাংস্টার মাইনপাল চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তুলাতলী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৭টি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই ইতিহাসের কষাঘাত পেরিয়ে পবিত্র কাবার পথচলা মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা কমানোর ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আমল নাটোরে শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ,পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী কারাগারে সীতাকুণ্ডে রং মেশানো ৩০ কেজি মাছ জব্দ, দুই বিক্রেতাকে জরিমানা মিয়ানমারে পাচারের সময় মিরসরাইয়ে সাড়ে ৪৮ টন ইউরিয়া সার জব্দ, ৩ জনকে জরিমানা সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারগামী পর্যটক নিহত সীতাকুণ্ডে ফ্যানে ঝুলছিল যুবলীগ কর্মীর লাশ, শরীরে নেই ফাঁসের চিহ্ন ফুটপাতের মাঝখানেই মৃত্যুর ফাঁদ, ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ডে মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কায় ক্ষুব্ধ সীতাকুণ্ডবাসী

ইতিহাসের কষাঘাত পেরিয়ে পবিত্র কাবার পথচলা

ইসলাম ডেস্ক ।। / ৩০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পবিত্র কাবা শরিফ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে পবিত্র স্থান ও ঐক্যের প্রতীক। মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরকে ঘিরে ছড়িয়ে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। হারাম এলাকার সীমানার ভেতরে যুদ্ধ ও রক্তপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা, অবরোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই ঘরকে। যুগে যুগে কাবা শরিফের ওপর আসা তেমনই কিছু বড় আঘাতের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আগুনে ক্ষতি ও হাজরে আসওয়াদ স্থাপন (৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ)

৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে অগ্নিকাণ্ডে পবিত্র কাবা শরিফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন কাবা পুনর্নির্মাণের পর ‘হাজরে আসওয়াদ’ (পবিত্র কালো পাথর) স্থাপন নিয়ে কুরাইশদের গোত্রগুলোর মধ্যে মারাত্মক বিরোধ দেখা দেয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেই বিরোধের নিরসন করেন এবং নিজ হাতে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করেন।

২. উমাইয়া বাহিনীর অবরোধ ও অগ্নিকাণ্ড (৬৮৩ ও ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দ)

৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের বাহিনী মক্কা অবরোধ করলে কাবা শরিফে আগুন লেগে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করেন এবং হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর মূল কাবার অনুকরণে ‘হাতিম’ অংশকে কাবার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আবদুল মালিকের নির্দেশে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ পুনরায় মক্কা অবরোধ করে ইবনে জুবায়ের (রা.)-কে শহীদ করেন এবং কাবাকে আবারও কুরাইশদের সময়ের আকৃতিতে ফিরিয়ে আনেন।

৩. কার্মাতি গোষ্ঠীর নারকীয় হামলা ও হাজরে আসওয়াদ চুরি (৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ)

কাবার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে ৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে। ‘কার্মাতি’ নামের এক চরমপন্থী বিদ্রোহী দল হজের সময় মক্কায় হামলা চালিয়ে অসংখ্য হাজিকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাঁদের মরদেহ জমজম কূপে ফেলে দেয়। তারা হাজরে আসওয়াদ উপড়ে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ ২৩ বছর নিজেদের দখলে রাখে। পরবর্তীতে পাথরটি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও তা কয়েক খণ্ডে ভেঙে যায়, যা বর্তমানে রুপালি ফ্রেমে ধরে রাখা হয়েছে।

৪. আকস্মিক বন্যা ও ধস (১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ)

১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় এক ভয়াবহ বন্যায় কাবা শরিফের দেয়াল ধসে পড়ে। পরবর্তীতে উসমানি সুলতান চতুর্থ মুরাদের নির্দেশে মজবুত গ্রানাইট পাথর দিয়ে কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করা হয়। কাবার বর্তমান মূল অবকাঠামোটি মূলত সেই নির্মাণের ধারাবাহিকতাই বহন করছে।

৫. জুহাইমান আল-ওতাইবির দখলদারিত্ব (১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ)

আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর। জুহাইমান আল-ওতাইবি নামের এক ব্যক্তি তার শ্যালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-কাহতানিকে ‘ইমাম মাহদি’ দাবি করে প্রায় ৪০০-৫০০ সশস্ত্র অনুসারী নিয়ে ফজরের সালাতের সময় মসজিদুল হারাম দখল করে নেয়। তারা আগেই গোপন কক্ষে অস্ত্র ও খাদ্য মজুত করে রেখেছিল। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালিয়ে সৌদি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী (পাকিস্তান ও ফরাসি বাহিনীর সহযোগিতায়) হারাম শরিফ মুক্ত করে। এই হামলায় ২৫৫ জন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হন।

শত শত বছরের নানা আঘাত, রক্তপাত ও চরমপন্থার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও পবিত্র কাবা শরিফ আজও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিমের ইবাদত, ভালোবাসা ও তাওহীদের সুদৃঢ় কেন্দ্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..