চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এক অসহায় মায়ের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসায় রক্তের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে মৃত্যুর পর দাফন পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন আনসারী। শোকাহত ওই পরিবারের চরম বিপদের দিনে তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া এই সহযোগিতার হাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো উপজেলায় প্রশংসায় ভাসছে।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার বাসিন্দা তানহা ইসলামের এক মাত্র শিশু সন্তান রাফান দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার শ্যামলী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুটির চিকিৎসার জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে বিষয়টি জানতে পেরে রক্তের ব্যবস্থা করে দেন সরোয়ার উদ্দিন আনসারী। তবে চিকিৎসকদের শত চেষ্টা ও চিকিৎসা সত্ত্বেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাফান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
সন্তানকে হারিয়ে যখন দিশেহারা মা দাফন-কাফনের খরচ ও ব্যবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর বিড়ম্বনায় পড়েন, তখন আবারও দেবদূতের মতো পাশে এসে দাঁড়ান সরোয়ার। শোকস্তব্ধ ওই অসহায় পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে সব ধরনের আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে তাঁর একক প্রচেষ্টায় ও আর্থিক সহায়তায় ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে শিশুটির দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়।
মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন আনসারী দীর্ঘদিন ধরে নিজের অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। রক্তদান, অসহায় রোগীদের সহায়তা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
সরোয়ার উদ্দিন আনসারীর এই অসামান্য মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে স্থানীরা জানান, বর্তমান সময়ে যেখানে পরম আত্মীয়রাও বিপদে সরে দাঁড়ায়, সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা ও মানবিক মানুষের এমন দায়িত্ববোধ সত্যিই বিরল। তাঁর এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক কাজ সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও তরুণদের বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;