চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গলভাটিয়ারিতে রেলওয়ে এবং সরকারি খাসজমির সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে উজাড় করার এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্ব পাশে ও পোর্ট লিংক-২ কনটেইনার ডিপোর দক্ষিণ পাশে পরিবেশের তোয়াক্কা না করে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গাছ কাটার মহোৎসব চলছে। একই সঙ্গে টিলা কেটে সমতল করার কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত বনায়নের অন্তত অর্ধেকেরও বেশি ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় শতাধিক। ইতিমধ্যে কাটা গাছের অন্তত সাত ট্রাক কাঠ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাটার সুবিধার্থে কিছু গাছ গুঁড়ি কেটে টুকরো করে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আর কেটে ফেলা টিলার মাটি দিয়ে চারপাশের নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে।
ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশনের সামান্য দূরে অবস্থিত একটি কনটেইনার ডিপোর পাশে ব্রিটিশ আমল থেকেই গড়ে উঠেছিল বিশাল এই বনায়ন। তবে সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যোগসাজশ করে এই বনায়নের একটি বড় টিলা কেটে পুরোপুরি সমতল করে ফেলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গাছ কাটা ও টিলা ধ্বংসের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি চক্র। টিলা সমতল করে কন্টেইনার ডিপো সম্প্রসারণ কিংবা অবৈধ দখল নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ে বা সরকারি ভূমিতে পূর্বেও গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে, তবে এবার যেভাবে প্রকাশ্যে টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে তা নজিরবিহীন।
সরকারি সম্পত্তি ও বনায়ন ধ্বংসের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, “এগুলো রেলওয়ের জমি কি না, কিংবা গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না বা কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাটা হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।” তিনি আরও জানান, “কয়েক সপ্তাহ আগে খবর পেয়ে গাছের কাটা অংশ ও স্তূপ দেখতে পাই। তবে গাছগুলো পরিবহনের খবর পেলে ট্রাকসহ জব্দ করা হতো।”
অন্যদিকে, রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রেলওয়ের জায়গায় গাছ কাটতে হলে অবশ্যই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি।”
কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা বক্তব্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এত বড় পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধ চলতে থাকলেও নজরদারির অভাবে সরকারি সম্পত্তি ও প্রকৃতি ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;