চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি নালার দেয়াল উদ্বোধনের চার মাস যেতে না যেতেই ধসে পড়েছে। উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মধ্যম ঘোড়ামারা ফকিরহাট সড়কসংলগ্ন এলাকায় নির্মিত এই নালার দেয়াল ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, নালার এক পাশের দেয়ালের সিংহভাগ ধসে পড়ে বর্তমানে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নালার পাশে স্থাপিত ফলকে প্রকল্পটির নাম লেখা রয়েছে ‘মধ্যম ঘোড়ামারা ফকিরহাট হাদাগাজী রোড-সংলগ্ন বর্ধিত ড্রেন মেরামত’। সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা এলজিইডির কারিগরি সহায়তায় ‘রাজস্ব উদ্বৃত্ত’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি সম্পন্ন হয়। তবে এত বিপুল ব্যয়ে নির্মিত নালার দেয়াল এত দ্রুত ধসে পড়ার ঘটনায় কাজের মান ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
নির্মাণকাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজটি শেষ করেছিল। ফলে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় নালাটির একাংশ ধসে পড়ে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে এলজিইডি কর্মকর্তাদের তদারকি ঠিকমতো ছিল কিনা তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে নালার দেয়াল ধসে পড়ার কারণ হিসেবে ভিন্ন দাবি তুলেছেন উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা। সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর বাদশা জানান, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, নালা নির্মাণের পর স্থানীয় কিছু লোক ঘর তোলার জন্য বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে গিয়ে নালার দেওয়ালে আঘাত করলে তা ধসে পড়ে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি পরিচালনা করেছিল, সে সম্পর্কিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি এই প্রকৌশলী।
পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, নালার দেয়াল ধসে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সমকাল
খালেদ / পোস্টকার্ড ;