মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মূল টার্গেট ছিলেন মূলত তারকা অভিনেতা সালমান খান। তবে তার কঠোর ও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হামলাকারীরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। সালমান ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের মতো তারকাদের বাড়িও আগে থেকে রেকি করেছিল হামলাকারীরা। কম নিরাপত্তায় থাকা তারকাদের সহজ নিশানা করার নির্দেশ পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
মুম্বাই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে পরিকল্পনা বাতিল করে। এরপর তারা বাধ্য হয়ে অন্য তারকাদের ওপর নজর দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারে টাইগার শ্রফ কোনো নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন না। গত রোববার জুহুর পুষ্পা নরসি গ্রাউন্ড থেকে ফুটবল ম্যাচ শেষে বেরোনোর সময় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে টাইগারের চালক ও এক অটোচালক আহত হন এবং হামলাকারীরা আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে বাইক ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠার পরিকল্পনা করে।
এই ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হরিয়ানার সোনিপতের রেহান রহিসউদ্দীন ও ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের হৃতিক মাহতো নামের তিনজনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে হরিয়ানার সোনিপত থেকে সমীর নামের আরও একজনকে এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অস্ত্র সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের আরও চার সদস্য—কুনাল, সুমিত, রাধা ও ববিতা—কে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সবমিলিয়ে এই হামলায় এখন পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, হামলার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে দেড় লাখ রুপি চুক্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা ও বিদেশি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
হামলার দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির অডিও বার্তা সামনে আসে, যেখানে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হিসেবে পুরো চলচ্চিত্র শিল্পকে হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যারা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে কিংবা তাদের সঙ্গে তাল মেলাবে না, তাদের হত্যা করা হবে। মূলত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে শুটিংয়ের সময় কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সালমানকে হত্যার হুমকি এবং তার ঘনিষ্ঠদের ওপর নানা সময়ে হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এই গ্যাং, যার সর্বশেষ বলি হতে চলেছিলেন অভিনেতা টাইগার শ্রফ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;