চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলাম লেখক ও প্রথিতযশা ক্রীড়া সংগঠক প্রফেসর শায়েস্তা খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভাবগম্ভীর স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামস্থ সংস্থা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সহ-সভাপতি ইবাদুল হক লুলু এবং সঞ্চালনা করেন যৌথ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মদ।
স্মরণ সভার প্রারম্ভে প্রখ্যাত এই ক্রীড়া সংগঠকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর এবং দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মঞ্চ ক্লাবের (চমকস) অ্যাডহক কমিটির সদস্য রুশো মাহমুদ।
স্মরণ সভায় মরহুমের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রফেসর শায়েস্তা খানের অবদান, আদর্শ ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি ত্যাগ চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সরকারি কোনো বড় অর্থায়ন বা প্রণোদনা ছাড়া একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, তা তিনি নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন। চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থাকে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে নেতৃত্বের দৃঢ়তায় সুসংগঠিত রেখে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর শায়েস্তা খানের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রামের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান, সিজেকেএস কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরী, সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান আকবর ও আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং মরহুমের সুযোগ্য সন্তান ডা. ইশতিয়াক আজিজ খান পিতার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে প্রফেসর শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ, ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। তিনি ষাটের দশকে সামরিক শাসনবিরোধী গণআন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে মৃত্যুপূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন ছিলেন। স্মরণ সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং এতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট পেশাজীবী ও আমন্ত্রিত সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;