• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে অপসারিত স্পিডব্রেকার, গুরুত্ব পাচ্ছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ সীতাকুণ্ডে চিকিৎসকদের ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত, সঠিক চিকিৎসায় মৃত্যুঝুঁকি কমানোর তাগিদ মীরসরাইয়ে ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর নতুন কমিটি ঘোষণা লাভ-লোকসানের শঙ্কা নিয়ে সীতাকুণ্ডে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক স্মার্টফোনের কুইজে ফ্রিতে ওমরাহর সুযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব সীতাকুণ্ডে অবৈধ বালু উত্তোলন, তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি মীরসরাইয়ে তথ্য কমিশনারের সভা অনুষ্ঠিত, জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ শতবর্ষের ফিশারিঘাট, ভোরেই কোটি কোটি টাকার মাছ বাণিজ্য আর্টিলারির সুবর্ণজয়ন্তীতে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর সেনাপ্রধানের জোর আইআইইউসি শিক্ষার্থী মাইশা হত্যা, ঘাতক লরি চালক রিয়াজ গ্রেফতার

লাভ-লোকসানের শঙ্কা নিয়ে সীতাকুণ্ডে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ১৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

শীতের আগমনে বদলে গেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গ্রামীণ জনপদের মাঠের চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিতে এখন চলছে শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যার মহা উৎসব। কোথাও সবুজ পাতার ফাঁকে বেড়ে উঠছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি, কোথাও মাচায় মাচায় শোভা পাচ্ছে লাউ ও শিম। আবার কোনো জমিতে সারি সারি মুলা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ নানা জাতের সবজির চাষ চলছে। পালংশাক, লালশাক, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন শাকের আবাদেও ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।

তবে ভালো ফলন ও বাজারদরের আশার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকেই। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে সার, কীটনাশক, জমি চাষ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব খাতেই উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে সবজি চাষের লাভের হিসাব আগের মতো সহজ আর নেই। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানে পড়তে হবে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। বিশেষ করে উপকূলীয় আবহাওয়া এবং লবনাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলা করে সবজি ফলাতে গিয়ে বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে সীতাকুণ্ডের কৃষকদের।

সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ শীতকালীন সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ চলছে। কেউ নতুন করে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কার ও সেচের কাজে। উপজেলার পাহাড়ি পাদদেশ ও সমতল জনপদে উৎপাদিত এসব টাটকা সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে সরবরাহ করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই আগাম সবজি চাষের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশা থাকলেও চড়া দামের কৃষিপণ্যের কারণে কৃষকের মনে দোলাচল কাজ করছে।

উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষকরা জানান, অতীতে শীতকালীন সবজি চাষে তুলনামূলক ভালো লাভ হতো। তখন রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ কম থাকায় লাভ থাকত নাগালে। কিন্তু বর্তমান বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারদর যদি অনুকূলে না থাকে, তবে ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হবে। তবুও জীবন-জীবিকার টানে এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে দমে না গিয়ে নতুন উদ্যমে সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সীতাকুণ্ডের মাটি ও আবহাওয়া শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজির গুণগত মানও বেশ ভালো। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ মৌসুমে সীতাকুণ্ডের কৃষকেরা ভালো ফলনের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খালেদ  / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..