• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৪ কৃষিতেই লুকিয়ে আছে ইবাদত ও সদকার সওয়াব,এক মহান মানবিক পেশা নজরুলের সীতাকুণ্ড স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ,চন্দ্রনাথে জীবন্ত স্মৃতিভূমি গড়ে তোলার প্রত্যাশা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের যুবসমাজের অবক্ষয় রোধের অজুহাত, প্রেম-রোমান্স নির্ভর নাটক-সিনেমা বন্ধে হাইকোর্টে রিট ৩৪০ কোটি টাকা আয়েও মহা বিপর্যয়, ‘টক্সিক’ কেন যশের ক্যারিয়ার ও ভারতের ইতিহাসেই সবচেয়ে বড় ফ্লপ বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে: কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু, আহত ১১ উইন্ডোজ ১০ ও ১১ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের নতুন চমক, চালু হলো ডেডিকেটেড ‘জেমিনি’ অ্যাপ চট্টগ্রামে ব্যাংক এশিয়াতে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের আহ্বান জরাজীর্ণ কালুরঘাট জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স, মিনি বাংলাদেশ এখন আগাছা আর মাদকের আখড়া

জরাজীর্ণ কালুরঘাট জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স, মিনি বাংলাদেশ এখন আগাছা আর মাদকের আখড়া

বিশেষ প্রতিবেদক ।। / ২৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ (মিনি বাংলাদেশ) এখন এক জরাজীর্ণ ভূতুড়ে জগতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ থাকায় প্রায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে থাকা এই পর্যটন কেন্দ্রটি ঝোপঝাড়, শেওলা আর আগাছায় ছেয়ে গেছে। বিনোদন কেন্দ্রটির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়ায় ও ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-নিরাপত্তা না থাকায় এখন এটি মাদকাসক্তদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

২০০৬ সালে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহাসিক স্থাপনা—যেমন আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লালবাগ কেল্লা, কান্তজির মন্দির ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ক্ষুদ্র আদল বা রেপ্লিকা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছিল পার্কটি, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিতি পায়।

বর্তমানে পার্কটির করুণ অবস্থা:

  • স্থাপনা ও রেপ্লিকার বেহাল দশা: আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল ও অন্যান্য ঐতিহাসিক রেপ্লিকাগুলোর দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, দেখা দিয়েছে ফাটল এবং জমেছে সবুজ শেওলার আস্তরণ।

  • রাইড ও টাওয়ার বিকল: পার্কের অন্যতম মূল আকর্ষণ ২৪ তলা (৭১ মিটার) উঁচু ঘূর্ণায়মান রেস্টুরেন্ট টাওয়ারটির লিফট নষ্ট এবং চারপাশ কাচের টুকরোয় ভরা। রোলার কোস্টার, ফেরি হুইল, মেরি-গো-রাউন্ড ও টয়ট্রেনের যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে, অনেক অংশ খোয়াও গেছে।

  • মশারি প্রজনন কেন্দ্র: কৃত্রিম জলাধার ও জমা পানিতে মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, হাঁটার পথগুলো হারিয়ে গেছে জঙ্গল আর ঝোপঝাড়ের আড়ালে।

  • নিরাপত্তাহীনতা ও কর্মীদের বকেয়া: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ভাঙচুরের পর থেকে পার্কের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৯ মাস ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং সীমানাপ্রাচীর ভাঙা থাকায় তাঁরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কমপ্লেক্সটিতে একটি প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি জানান, আগামী দেড় মাসের মধ্যে এটি চালুর বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের সাথে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই নতুন ইজারাদার নিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো মেরামত ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আগের রূপ ও প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরিয়ে আনা হবে, যার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে জেলা প্রশাসন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..