• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সিলিমপুরে আবাসিক এলাকা বাঁচিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণের আহ্বান মানবতার ফেরিওয়ালা আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান মিরসরাইয়ে ফার্নেস বিস্ফোরণে আহত চীনা প্রকৌশলীসহ তিন শ্রমিকের মৃত্যু সীতাকুণ্ডে ‘সমাজ দর্পণ’ প্রকাশনা ও সংবর্ধনা সভা ,২৫৫ সদস্যের উদ্যাপন কমিটি গঠন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিল ‘ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ’ সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগের দুই নেতা আটক, ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের ভিডিও ভাইরাল ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসছে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, যুক্ত হবে জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা, সীতাকুণ্ডে প্রাণ গেল তরুণ ব্যবসায়ীর

কৃষিতেই লুকিয়ে আছে ইবাদত ও সদকার সওয়াব,এক মহান মানবিক পেশা

ইসলাম ডেস্ক ।। / ১০৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে লাঙল-জোয়াল কিংবা বীজের থালা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন কৃষক। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাটিতে বীজ বোনার মধ্য দিয়ে কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন নয়, পুরো জাতির খাদ্যের নিশ্চয়তা রচিত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই অসামান্য শ্রম ও ত্যাগ কেবলই জীবনধারনের জীবিকা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়; বরং এটি মানবসেবা, পরিবেশ রক্ষা এবং অফুরন্ত সওয়াবের এক মহান ইবাদত।

ধর্মীয় গবেষক ও আলেমদের মতে, ইসলাম কৃষিকাজকে সদকা এবং ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা সুরা আনআমে ইরশাদ করেন, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি তা দিয়ে সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি” (সুরা আনআম : ৯৯)। আয়াতের শিক্ষায় স্পষ্ট, কৃষক মাটিতে শ্রম দেন বটে, তবে তাতে জীবন ও প্রাচুর্য সঞ্চার করেন একমাত্র আল্লাহ।

কৃষিকাজ যে কত বড় সওয়াবের কাজ, তা প্রখ্যাত সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস থেকে জানা যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, “যেকোনো মুসলিম একটি ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা কোনো পশু আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়” (বুখারি : ২৩২০)। অর্থাৎ, কোনো কৃষক বা বাগান মালিকের উৎপাদিত ফসল যদি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কোনো জীবজন্তু বা পাখি খেয়ে ফেলে, তাহলেও তার আমলনামায় সদকার সওয়াব লেখা হতে থাকে। এমনকি রোপণকারীর মৃত্যুর পরও যতদিন সেই বৃক্ষ মানুষকে ফল, পুষ্টি বা ছায়া দিয়ে যাবে, ততদিন এটি ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা নিরবচ্ছিন্ন দান হিসেবে তার পরকালের খাতায় যুক্ত হতে থাকবে।

এমনকি কেয়ামতের মতো প্রলয়ঙ্করী মুহূর্তেও আশাবাদী হয়ে নির্মাণের বার্তা দিয়েছে ইসলাম। হাদিসে এসেছে, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ক্ষণেও যদি কারও হাতে একটি খেজুরের চারা থাকে এবং তা রোপণ করার সুযোগ থাকে, তবে যেন সে তা রোপণ করে (মুসনাদে আহমদ)।

বাংলাদেশে কৃষকরাই খাদ্যনিরাপত্তার মূল কারিগর। আধুনিক যুগে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক খাদ্যসংকট ও বেকারত্ব মোকাবেলায় কৃষির গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কেবল সনাতনী কৃষকই নন, শিক্ষিত তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে যুক্ত হলে হালাল উপার্জনের পাশাপাশি তা জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

যে হাত মাটি প্রস্তুত করে বীজ বুনে বিশ্বকে অন্ন জোগায়, সেই হাত কেবল ফসল ফলায় না—মানবতার সেবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি কুড়ায়। তাই কৃষিকে অবহেলা না করে সম্মানিত পেশা ও সদকার উপায় হিসেবে দেখা এবং অনাবাদী জমি আবাদে মনযোগী হওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..