ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত নিরাময়, আক্রান্তদের জটিলতা হ্রাস এবং চিকিৎসকদের চিকিৎসা-দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে ডেঙ্গু বিষয়ক এক বিশেষ সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স। সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় ও শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশাবাহিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং হাসপাতালে আগত রোগীদের উন্নত ও আধুনিক সেবাদান সুনিশ্চিত করতেই মূলত এই সায়েন্টিফিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক গাইডলাইন ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডাঃ রাজিব ভৌমিক। চিকিৎসায় সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো সঠিক সময়ে রোগের জটিলতা শনাক্ত করা। বিশেষ করে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু থেকে রোগীর ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা শক সিন্ড্রোমে রূপ নেওয়ার লক্ষণগুলো শুরুতেই চিনতে পারা অত্যন্ত জরুরি। সেমিনারে ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক ‘ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট’ (রক্তরস বা প্লাজমা ক্ষরণ রোধে সঠিক পরিমাণ তরল প্রদান), প্লাটিলেট ও রক্তের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিচর্যা এবং প্রাক-লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ প্রয়োগের বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্টবৃন্দ, মেডিকেল অফিসার এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সদের উপস্থিতিতে এ সায়েন্টিফিক সেমিনারটি এক প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবহারিক নানা জটিলতা ও তা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। নিয়মিত এমন সায়েন্টিফিক সেমিনার আয়োজন চিকিৎসক ও নার্সদের মেডিকেল সায়েন্সের সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে আপডেট রাখবে, যা মাঠপর্যায়ে অকাল মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা।
সেমিনারের সভাপতি ডাঃ শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, “ডেঙ্গু একটি পরিবর্তনশীল রোগ এবং এর লক্ষণ ও ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনারের গুরুত্ব অপরিসীম। সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষের সরকারি হাসপাতালে এসে সর্বোচ্চ মানের সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসাকর্মীরা যদি হালনাগাদ চিকিৎসাপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত ও সচেতন থাকেন, তবে হাসপাতাল পর্যায়ে ডেঙ্গুজনিত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটবে না। আমরা হাসপাতালে আগত রোগীদের উন্নত, মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
খালেদ / পোস্টকার্ড ;