• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
আগ্রাবাদ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৩৫ শিশুর বিনামূল্যে ঠোঁট ও তালু কাটা সার্জারি ক্যাম্প ২৩ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে শারদীয় দুর্গাপূজার আলোচনা সভা: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য — লায়ন আসলাম চৌধুরী সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, মা ইলিশ রক্ষায় যৌথ অভিযান প্রফেসর শায়েস্তা খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, স্মরণসভায় শ্রদ্ধা জানাবে ক্রীড়া ও শিক্ষাঙ্গন গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সীতাকুণ্ড পৌর সদর বাজারে খাসজমির ১৮ দোকান ইজারা জটিলতা, ফুটপাত দখলে বাড়ছে যানজট সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রতিনিধিদের ক্ষোভ চট্টগ্রামে দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে রেললাইনের নাট-বল্টু চুরি, যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা রেলওয়ের জমি দখল, সাবেক এমপি রুহেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সীতাকুণ্ডে সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

চট্টগ্রামে দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে রেললাইনের নাট-বল্টু চুরি, যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা

মেজবাহ উদ্দীন খালেদ।। / ৩৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচের অংশে রেললাইনের নাট-বল্টু খুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীবাহী ও মালবাহী একাধিক ট্রেন এই রুট দিয়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে প্রবেশ করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যায়। এমন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে প্রকাশ্যে ও গোপনে অপকর্ম চালিয়ে রেলের নাট-বল্টু ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধানত স্থানীয় মাদকসেবী, ভবঘুরে এবং সুযোগসন্ধানী ভাঙারি চোরাকারবারীদের একটি চক্র এই অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত। রাতে এবং সুযোগ বুঝে দিনের আলোতেও নির্জন সময়ে এরা রেললাইনের ফিশপ্লেট, নাট-বল্টু, ক্লিপ ও লোহালক্কড় খুলে নিয়ে যায়। অতি অল্প মূল্যে ভাঙারির দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে বা মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা রেলের মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সম্পদের চরম ক্ষতি সাধন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রেললাইনের নাট-বল্টু ও ফিশপ্লেটের মূল কাজ হলো দুটি পাতকে শক্তভাবে যুক্ত রাখা এবং ট্রেনের ভারী ওজন চলাচলের সময় পাতগুলোকে নিজ স্থানে স্থির রাখা। যদি লাইন থেকে নাট-বল্টু বা ক্লিপ খুলে ফেলা হয়, তবে দ্রুতগামী কোনো ট্রেন যখন ওই স্থান অতিক্রম করবে, তখন অতিরিক্ত চাপে রেলের পাতগুলো সরে বা বেঁকে যেতে পারে। এর সরাসরি পরিণতি হলো ট্রেনের গতিপথচ্যুত হয়ে লাইনচ্যুত হওয়া। দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচেই যদি কোনো ট্রেন লাইনচ্যুত হয়, তবে ট্রেনের বগিগুলো ছিটকে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এই অপকর্মের ফলে কেবল ট্রেন দুর্ঘটনাই নয়, একই সাথে দেওয়ানহাট ব্রিজের অবকাঠামোগত কাঠামোর ওপরও তীব্র আঘাত আসতে পারে। দেওয়ানহাট ওভারব্রিজটি এমনিতেই কয়েক দশকের পুরনো এবং বহু অংশে জরাজীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। লাইনের ত্রুটির কারণে নিচে মারাত্মক কোনো ট্রেন দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণ ঘটলে ব্রিজের পিলারে আঘাত লেগে পুরো ওভারব্রিজ ভেঙে পড়ার মতো ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটা অসম্ভব কিছু নয়। এতে করে সেতুর ওপর দিয়ে চলমান শত শত যানবাহন এবং যাত্রীসাধারণ চরম বিপদের মুখে পড়বে, যা পুরো বন্দর নগরীর সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিতে পারে।

রেলওয়ে প্রকৌশলীদের মতে, রেললাইন নিয়মিত পরিদর্শন ও সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরী একটি কাজ। নাট-বল্টু চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার রোখে অবিলম্বে ওই এলাকায় রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) টহল জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা এবং আশপাশের অবৈধ ভাঙারি দোকানগুলোতে অভিযান চালানো আবশ্যক। পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে যেন কোনো ব্যক্তিকে রেললাইনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

খালেদ/পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..