বাংলাদেশ রেলওয়ের আড়াই একরের বেশি জমি অবৈধভাবে দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুমোদনহীন জমিতে অবৈধভাবে কারখানা ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের ১ কোটি ১২ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২-এ এই মামলা রুজু করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক কারখানা স্থাপনের অজুহাতে মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিংগুলী মৌজায় রেলওয়ের প্রায় ৩.৭৫ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে লিজ চূড়ান্ত মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে জমিটি দখলে নেন এবং সেখানে ৬ হাজার ৪৮ ৯ বর্গফুটের সেমিপাকা কারখানা ও ৯ ৯০ বর্গফুটের দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সরকারি ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা শিথিল করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে গ্যাসমিন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে উক্ত এলাকার বিএস ৫১১৯ দাগ থেকে মাত্র ০.৭৪ একর (৩২,১৩০ বর্গফুট) জমি কেবল বার্ষিক নবায়নের ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া লিজের বাইরে থাকা অন্যের নামে কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমি এবং বিএস ৫১২০ দাগের একটি বিশাল পুকুর ভরাট করে নিজ দখলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।
দুদকের সরেজমিন অনুসন্ধান টিম তদন্তে জানতে পারে, অনুমোদিত মাত্র ০.৭৪ একর জমির বিপরীতে তিনি বিএস ৫১১৯ ও ৫১২০ দাগের মোট ২.২৮ একর (২২৮ শতক) জমি বছরের পর বছর বেআইনিভাবে নিজের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যবহার করে আসছেন। বাস্তবে দখলে থাকা সেই জমিতে বিশাল কারখানা, অফিস রুম, মসজিদ, অজুখানা, রেডিমেড ব্লক শুকানোর বড় মাঠ ও বিশাল পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত ০.৭৪ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করা হলেও, বাস্তবে দখলে রাখা ২.২৮ একর জমির হিসেবে সরকারের প্রাপ্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা। অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতিরিক্ত ১৫৪ শতক জমি বেআইনি দখলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় জানায়, অবৈধ দখল ও অর্থ আত্মসাতের এই পুরো ঘটনাটি ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে সংগঠিত হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, সরকারি সম্পদ দখল ও ক্ষতির মামলা করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত চলাকালে যদি রেলওয়ে বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি যোগসাজশ বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাঁদেরকেও আইনানুযায়ী এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;