চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কালী মন্দির সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সরকারি সিডিউল ও নকশা না মেনে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনীয় রডের ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত পুরুত্বের চেয়ে অনেক কম ঢালাই দেওয়ার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সড়কটিতে নিয়ম অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি। পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ নম্বর নিম্নমানের ইটের খোঁয়া ও অতিরিক্ত কাদা-বালু। নির্মাণকাজে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কোনো প্রকৌশলী বা সরকারি তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রেজিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একাধিক সড়ক নির্মাণকাজেও একই ধরনের অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে প্রশাসনিক নজরদারি শিথিল হওয়ায় এসব সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সড়কটির স্থায়ী স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নিম্নমানের ঢালাইয়ের কারণে প্রথম বর্ষাতেই পুরো সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে এবং জনগণের সরকারি বরাদ্দের টাকা পুরোপুরি পানিতে ফেলানো হবে। অবিলম্বে কালী মন্দির সড়কসহ সংলগ্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মোট বরাদ্দ, প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও ঢালাইয়ের প্রকৃত পুরুত্ব সরেজমিনে পরিমাপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও জরুরি প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। জনগণের করের টাকায় নির্মিত উন্নয়নকাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা এলজিইডি প্রকৌশল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;