চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার স্থানীয় নৌয়া গাজী ভূঁইয়া পাড়া গ্রামের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ পুকুর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে পানির নিচে পড়ে থাকা মরদেহটি শনিবার সকালে হঠাৎ ভেসে উঠলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই পুকুরের পানির গভীরে অস্বাভাবিক একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তবে মরদেহটি পানির প্রায় ৯৫ শতাংশ নিচে নিমজ্জিত থাকায় এবং স্পষ্ট বোঝা না যাওয়ায় অনেকেই এটিকে কোনো মৃত কুকুরের দেহ মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু শনিবার সকালে রহস্যজনক বস্তুটির জায়গায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ ভেসে উঠলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন।
দীর্ঘদিন পানির নিচে পড়ে থাকার কারণে মরদেহটিতে চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মৃত ব্যক্তিটি স্থানীয় কেউ নাকি দূরবর্তী কোনো এলাকা থেকে এসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নানা কৌতূহল ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিমকে আলামত সংগ্রহের জন্য অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করতে আশপাশের থানাগুলোতে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নেওয়ার মতো অবস্থা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনা করে জোর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;