চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী পুকুরের একাংশ ভরাট করে গৃহনির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের কাজীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের এই ঘটনা ঘটেছে। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের তির একই এলাকার বাসিন্দা মৃত সিরাজুল মোস্তফার ছেলে মাকসুদুর রহমান ওরফে বজল সওদাগরের দিকে।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ শতকের বিশালাকার এই পুরনো জলাধারটির পশ্চিম পাশের বেশ কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে গৃহনির্মাণের কাজ জোরকদমে চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পুকুরটির দক্ষিণ পাশের একটি বড় অংশ ভরাট করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের পুরনো এই পুকুরটি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে সরাসরি কেউ ভরাট কাজে বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান ওরফে বজল সওদাগর বলেন, পুকুরটির অংশীদার হিসেবে খতিয়ানে আমার নাম রয়েছে। পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় সেখানে ভরাট করে ভাড়া দেওয়ার জন্য ঘর নির্মাণ করছি। কারণ আমার কোনো স্থায়ী আয়ের পথ নেই, এই ভাড়ার টাকাতেই সংসার চলে। কারও ক্ষতি হবে এমন কোনো কাজ আমি করছি না।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান , তিনি দ্রুতই ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং আইনলঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিদর্শনের পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশের সুরক্ষা ও সুপেয় জলধার টিকিয়ে রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















