০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-ফ্রি সনদের পরও ১০ শ্রমিকের মৃত্যু,তদন্ত চেয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ঘেরাও

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটি। দুর্ঘটনাকবলিত ‘এমটি রাসি’ জাহাজটি কাটার আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে ‘গ্যাস-ফ্রি’ সনদপত্র পেয়েছিল বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন। এই সনদ পাওয়ার পরও কীভাবে বিষাক্ত গ্যাসে এমন প্রাণহানি ঘটল, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় এবং কমিটির সদস্য সচিব মো. আলীর সভাপতিত্বে এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে এ পর্যন্ত ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ক্ষতিকর পদার্থ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ‘এমটি রাসি’ জাহাজটিকে ‘গ্যাস-ফ্রি’ প্রত্যয়ন দিয়ে থাকলে কর্মরত শ্রমিকরা কীভাবে প্রাণঘাতী গ্যাসে আক্রান্ত হলেন? তিনি অবিলম্বে ওই গ্যাস-ফ্রি সনদের সত্যায়িত কপি জনসমক্ষে প্রকাশ ও সনদ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আলী বলেন, সনদ দেওয়ার সময় জাহাজের কোন কোন ট্যাংক বা কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তাতে ক্ষতিকর গ্যাসের মাত্রা কেমন ছিল—তা স্পষ্ট করতে হবে। সনদ দেওয়ার পর জাহাজে কাটিং শুরুর আগে ফের পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেসব তথ্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, বিএফটিইউসির সাধারণ সম্পাদক কেএম শহিদুল্লাহ, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের মো. ইদ্রিছ, জাহাজভাঙা যুব নেটওয়ার্কের আবু আহমেদ মিয়া এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।

সমাবেশ শেষে নেতারা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক ড. মো. আসাদুল ইসলামের মাধ্যমে মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সীতাকুণ্ডের প্রবাসী কামাল হোসেনের মৃত্যু

গ্যাস-ফ্রি সনদের পরও ১০ শ্রমিকের মৃত্যু,তদন্ত চেয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ঘেরাও

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটি। দুর্ঘটনাকবলিত ‘এমটি রাসি’ জাহাজটি কাটার আগে বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে ‘গ্যাস-ফ্রি’ সনদপত্র পেয়েছিল বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন। এই সনদ পাওয়ার পরও কীভাবে বিষাক্ত গ্যাসে এমন প্রাণহানি ঘটল, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় এবং কমিটির সদস্য সচিব মো. আলীর সভাপতিত্বে এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে এ পর্যন্ত ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ক্ষতিকর পদার্থ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ‘এমটি রাসি’ জাহাজটিকে ‘গ্যাস-ফ্রি’ প্রত্যয়ন দিয়ে থাকলে কর্মরত শ্রমিকরা কীভাবে প্রাণঘাতী গ্যাসে আক্রান্ত হলেন? তিনি অবিলম্বে ওই গ্যাস-ফ্রি সনদের সত্যায়িত কপি জনসমক্ষে প্রকাশ ও সনদ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আলী বলেন, সনদ দেওয়ার সময় জাহাজের কোন কোন ট্যাংক বা কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তাতে ক্ষতিকর গ্যাসের মাত্রা কেমন ছিল—তা স্পষ্ট করতে হবে। সনদ দেওয়ার পর জাহাজে কাটিং শুরুর আগে ফের পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেসব তথ্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, বিএফটিইউসির সাধারণ সম্পাদক কেএম শহিদুল্লাহ, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের মো. ইদ্রিছ, জাহাজভাঙা যুব নেটওয়ার্কের আবু আহমেদ মিয়া এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।

সমাবেশ শেষে নেতারা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক ড. মো. আসাদুল ইসলামের মাধ্যমে মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;