মানুষের পদচারণে দিনভর মুখর থাকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন, অবহেলা ও তদারকির অভাবে ম্লান হয়ে পড়েছে এই সৈকতের সৌন্দর্য। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং ভাঙাচোরা অবকাঠামোর কারণে এখন দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকেই এর বড় একটি অংশ ডুবে যায় গভীর অন্ধকারে। পুরো এলাকায় সারি সারি আলোর খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ সৌরবাতিই নষ্ট কিংবা উধাও। কোথাও কোথাও সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ ভেঙে ঝুলে আছে, আবার কোথাও শুধু সৌর ছাউনির ফাঁকা কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। অনেক এলাকায় তো এখনো আলোর খুঁটিই বসানো হয়নি। ফলে সন্ধ্যার নামার সঙ্গেসঙ্গেই সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার।

ঝুঁকিপূর্ণ সিঁড়ি ও উন্মুক্ত লোহার রড সৈকতে নামার মূল সিঁড়িগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ঢেউয়ের ধাক্কায় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সিঁড়ি ভেঙে গেছে। ভেঙে পড়া এসব কংক্রিটের কাঠামো থেকে বেরিয়ে আছে মরিচাধরা ধারালো লোহার রড। রাতের অন্ধকারে বা অসাবধানতাবশত সৈকতে নামতে গিয়ে পর্যটকরা প্রায়ই হোঁচট খাচ্ছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বসার স্থান বেদখল ও ময়লার স্তূপ পর্যটকদের বসার জন্য তৈরি করা স্থায়ী স্থানগুলোও এখন আর খালি নেই। এসব স্থান দখল করে রয়েছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। ফলে ক্লান্ত দর্শনার্থীদের বসার কোনো স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি সৈকতের দীর্ঘ অংশজুড়ে পড়ে আছে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং দর্শনার্থীদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটকদের দাবি, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের এই বেহাল দশা নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত নষ্ট হওয়া সৌরবাতি ও ক্ষতিগ্রস্ত সিঁড়ি মেরামত, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই পর্যটনকেন্দ্রটি তার আকর্ষণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড;













