০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিশু থেকে বৃদ্ধ লাখো মানুষের ঢল, বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

কাউকে বাবার হাত ধরে, কাউকে প্রবীণ স্বজনদের সঙ্গে, আবার কাউকে বন্ধু-বান্ধবের দল নিয়ে এগোতে দেখা যায়। হাতে রাসুলপ্রেমের পতাকা আর কণ্ঠে দরুদ-নাত নিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—নানা বয়সী মানুষের ঢলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বন্দরনগরীতে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস।

পীর সাহেবের নেতৃত্ব ও দোয়া

সকাল পৌনে ১০টায় শোলকবহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন খানকাহর সামনে উপস্থিত হন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।

সংবাদকর্মীদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষে পীর সাহেবের মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বহরটি এগোতে থাকলে পীর সাহেব উপস্থিত ভক্তদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন স্থানে মোনাজাত পরিচালনা করেন, যা পুরো নগরজুড়ে ছড়িয়ে দেয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি।

ঐতিহাসিক পথরেখা ও জনসমুদ্র

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জুলুসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা আশেকে রাসুলদের ঢল নামে। জুলুসটি শোলকবহর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা – মুরাদপুর – ২ নং গেট – জিইসি – ওয়াসা – লালখান বাজার – টাইগারপাস – জামেয়া মাদ্রাসা মাঠ

সড়কের দুই পাশে, ভবনের ছাদে এবং ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে জুলুসকে স্বাগত জানান।

উৎসবে মুখরিত নগর ও সেবা কার্যক্রম

জুলুস উপলক্ষে নগরীর সড়কদ্বীপ ও মোড়গুলো সাজানো হয়েছিল তোরণ, ব্যানার ও নিশান দিয়ে। মুরাদপুর থেকে জামেয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছিল ঐতিহ্যবাহী ভাসমান মেলা, যেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, পাজামা-পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হয়। এছাড়া জুলুসে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাবার পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করতে দেখা যায়।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা

লাখো মানুষের এই বিশাল সমাগমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। জুলুস চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুরগামী ফ্লাইওভারটিতে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বয়সের সব ব্যবধান ভুলে শিশু, তরুণ ও প্রবীণদের এই একসাথে হাঁটা কেবল একটি মিছিল নয়, বরং চট্টগ্রামের পাঁচ দশকের ভালোবাসার এক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে একই দিনে দুই কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে শিশু থেকে বৃদ্ধ লাখো মানুষের ঢল, বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

কাউকে বাবার হাত ধরে, কাউকে প্রবীণ স্বজনদের সঙ্গে, আবার কাউকে বন্ধু-বান্ধবের দল নিয়ে এগোতে দেখা যায়। হাতে রাসুলপ্রেমের পতাকা আর কণ্ঠে দরুদ-নাত নিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—নানা বয়সী মানুষের ঢলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বন্দরনগরীতে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস।

পীর সাহেবের নেতৃত্ব ও দোয়া

সকাল পৌনে ১০টায় শোলকবহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন খানকাহর সামনে উপস্থিত হন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।

সংবাদকর্মীদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষে পীর সাহেবের মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বহরটি এগোতে থাকলে পীর সাহেব উপস্থিত ভক্তদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন স্থানে মোনাজাত পরিচালনা করেন, যা পুরো নগরজুড়ে ছড়িয়ে দেয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি।

ঐতিহাসিক পথরেখা ও জনসমুদ্র

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জুলুসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা আশেকে রাসুলদের ঢল নামে। জুলুসটি শোলকবহর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা – মুরাদপুর – ২ নং গেট – জিইসি – ওয়াসা – লালখান বাজার – টাইগারপাস – জামেয়া মাদ্রাসা মাঠ

সড়কের দুই পাশে, ভবনের ছাদে এবং ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে জুলুসকে স্বাগত জানান।

উৎসবে মুখরিত নগর ও সেবা কার্যক্রম

জুলুস উপলক্ষে নগরীর সড়কদ্বীপ ও মোড়গুলো সাজানো হয়েছিল তোরণ, ব্যানার ও নিশান দিয়ে। মুরাদপুর থেকে জামেয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছিল ঐতিহ্যবাহী ভাসমান মেলা, যেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, পাজামা-পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হয়। এছাড়া জুলুসে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাবার পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করতে দেখা যায়।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা

লাখো মানুষের এই বিশাল সমাগমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। জুলুস চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুরগামী ফ্লাইওভারটিতে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বয়সের সব ব্যবধান ভুলে শিশু, তরুণ ও প্রবীণদের এই একসাথে হাঁটা কেবল একটি মিছিল নয়, বরং চট্টগ্রামের পাঁচ দশকের ভালোবাসার এক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;