০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেশাল ক্লাসের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডে শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ চাইলেন শিক্ষার্থী-অভিভাবক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে “স্পেশাল ক্লাস” এর নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার একদল সচেতন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্পেশাল ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা স্পেশাল ক্লাসে অংশ নিতে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও স্পেশাল ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা, ফলাফল কিংবা অন্যান্য শিক্ষাগত বিষয়ে পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, বৈষম্য এবং মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগেই দীর্ঘ সময় ধরে স্পেশাল ক্লাস নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিক পাঠগ্রহণের সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো স্পেশাল ক্লাস পরিচালিত হলে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা কিংবা অর্থ প্রদানে চাপ সৃষ্টি করা শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্পেশাল ক্লাসের নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে নির্দেশনা প্রদান, উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের তদন্ত ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।

আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, কুমিরা আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে স্পেশাল ক্লাস এবং সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।

তবে, আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এসব তথ্য অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ে দেশের ৬৪ সংবাদকর্মী হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার: বিএজে

স্পেশাল ক্লাসের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডে শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ চাইলেন শিক্ষার্থী-অভিভাবক

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে “স্পেশাল ক্লাস” এর নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার একদল সচেতন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্পেশাল ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা স্পেশাল ক্লাসে অংশ নিতে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও স্পেশাল ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা, ফলাফল কিংবা অন্যান্য শিক্ষাগত বিষয়ে পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি, বৈষম্য এবং মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগেই দীর্ঘ সময় ধরে স্পেশাল ক্লাস নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিক পাঠগ্রহণের সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো স্পেশাল ক্লাস পরিচালিত হলে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা কিংবা অর্থ প্রদানে চাপ সৃষ্টি করা শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্পেশাল ক্লাসের নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে নির্দেশনা প্রদান, উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের তদন্ত ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।

আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, কুমিরা আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে স্পেশাল ক্লাস এবং সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।

তবে, আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এসব তথ্য অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;