চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৮ নম্বর লোকাল বাসের ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরাস্থ আইআইইউসি গেট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়া গতির ৮ নম্বর লোকাল বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন মাইশা মুশফিরাত (২১) নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ওই শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মাইশা মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। তরুণ এই শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসেন। তাঁরা কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া বাস চলাচল বন্ধ, ঘাতক চালকের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত গতিরোধক বা ওভারব্রিজ নির্মাণের জোরালো দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;