দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি বা মতের অমিল দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় বিচ্ছেদ বা তালাক পর্যন্ত গড়ায়। তবে ইসলামে তালাক অত্যন্ত অপছন্দনীয় হলেও অনিবার্য পরিস্থিতিতে এর বিধান রয়েছে। একটি দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদের আগে ও পরে ইসলামি শরীয়তে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মেনে চলা প্রতিটি দম্পতির জন্য জরুরি।
ডিভোর্সের আগে করণীয় ও পালনীয় বিষয়সমূহ
ক্ষমাশীল ও সহনশীল হওয়া: সংসারে ছোটখাটো ভুল বা অসাবধানতা হওয়া স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে অনেক বড় দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব।
আলোচনায় সমাধান খোঁজা: যেকোনো ভুল বোঝাবুঝিতে নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে অথবা ব্যর্থ হলে পরিবার ও সমাজের জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বা মীমাংসার মাধ্যমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা ইসলামি নির্দেশ।
সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক প্রদান: যদি বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়েই পড়ে, তবে হটকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সুন্নাহ সম্মত পন্থায় (যেমন— এক পবিত্রতায় একটি তালাক প্রদান) তালাক কার্যকর করার নিয়ম রয়েছে।
ডিভোর্সের পরে পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ
স্ত্রীর ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক: তালাকপ্রাপ্ত নারীর জন্য শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। সাধারণত তিন মাসিক অথবা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসব পর্যন্ত এই সময়সীমা নির্ধারিত থাকে।
ইদ্দতের ব্যয়ভার স্বামীর ওপর: ইদ্দতকালীন সময়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর থাকা-খাওয়া ও যাবতীয় খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর ওপর ন্যস্ত থাকে।
দেনমোহর পরিশোধ করা: দেনমোহর কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং স্ত্রীর ফরজ অধিকার। বিচ্ছেদের আগে বা পরে বকেয়া দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
সদাচরণ বজায় রাখা: বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও ইসলাম পারস্পরিক সম্মান ও সদাচরণ বজায় রেখে শালীনভাবে বিদায় নেওয়ার শিক্ষা দেয়।
সন্তান প্রতিপালনে যত্নশীল হওয়া: বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের অধিকার রক্ষায় পিতা-মাতা উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে। সাধারণত নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও তার সমস্ত ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার পিতাকেই বহন করতে হয়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;