জীবন যেন কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমাকেও হার মানায়! যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক কুখ্যাত ভারতীয় গ্যাংস্টার বিয়ে করার জন্য আদালত থেকে পেয়েছেন মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি। জমকালো আয়োজনে পরিবারের সদস্য ও পাঁচ শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে বাশারাতের সেই আনন্দময় মুহূর্তগুলো স্থায়ী ছিল ক্ষণিকের জন্য; প্যারোলের সময়সীমা শেষ হতেই নববধূকে রেখে রাতেই তাকে ফের ফিরে যেতে হয়েছে কারাগারের নির্জন কক্ষে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী আর শতাধিক সশস্ত্র পুলিশের নজরদারিতেই সম্পন্ন হয়েছে এই আলোচিত বিয়ে।
কম্বোডিয়ান প্রেমিকা থেকে স্ত্রী: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বরের নাম মাইনপাল ধিল্লা ওরফে মাইনপাল বাদলি। তিনি হরিয়ানার ঝাঝর জেলার বাদলি গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৭ সালে বাহাদুরগড়ে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে একবার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কৌশলে ভারতে ছাড়িয়ে কম্বোডিয়ায় পালিয়ে যান ধিল্লা। সেখানে থাকাকালীন কম্বোডিয়ার নাগরিক মেটা চানমিয়া ওরফে মেটা চানের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা কম্বোডিয়ার সিয়েম রিপ অঞ্চলে গোপনে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের ঘরে তিনটি সন্তানও রয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়ান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ধিল্লাকে গ্রেপ্তার করে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাকে পুনরায় ঝাঝর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
শতাধিক পুলিশের কড়া পাহারায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা: দীর্ঘদিনের সঙ্গী মেটা চানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আদালতে প্যারোলের আবেদন জানান মাইনপাল ধিল্লা। আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত—মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে শর্তসাপেক্ষ প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয় ঝাঝর-গুরগাঁও সড়কের পাশে অবস্থিত ‘দুলিনা ফার্মহাউস’। স্থানটি ধিল্লার বন্দী থাকা ঝাঝর কারাগার থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে। দুপুর গড়াতেই ফার্মহাউসে উপস্থিত হন প্রায় ৫০০ আমন্ত্রিত অতিথি। ভুরিভোজ, ব্যান্ড পার্টি এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ থাকলেও পুরো এলাকা জুড়ে ছিল শ্বাসরুদ্ধকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা অভিযুক্ত পুনরায় পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিয়ের মণ্ডপ ও তার চারপাশে মোতায়েন ছিল প্রায় ১০০ সশস্ত্র পুলিশ সদস্য।
বাসর রাতের আগেই কারাগারে বর: বিয়ের যাবতীয় ধর্মাচার ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথি ও পরিবারের সদস্যরা যখন নতুন দম্পতিকে শুভকামনা জানাচ্ছিলেন, তখনই ঘড়ির কাঁটা সংকেত দেয় ফেরার সময় ঘনিয়ে আসার। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ৮টা বাজার আগেই পুলিশি প্রহরায় মাইনপাল ধিল্লাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় ঝাঝর জেলা কারাগারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কম্বোডিয়ান তরুণী ও হরিয়ানার গ্যাংস্টারের এই ব্যতিক্রমী বিয়ের খবরটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস