০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্বের প্রতীক বাবা

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।
ইতিহাসে পিতৃস্নেহের অসংখ্য দৃষ্টান্তের মধ্যে মোগল সম্রাট বাবরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইতিহাস অনুসারে, অসুস্থ পুত্র হুমায়ুনের সুস্থতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের জীবন উৎসর্গের প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে হুমায়ুন সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বাবর মৃত্যুবরণ করেন। পিতৃস্নেহের এই অনন্য আত্মত্যাগ বাংলা সাহিত্যে স্থান পেয়েছে কবি গোলাম মোস্তফার ‘জীবন–বিনিময়’ কাব্যে।
বাবা—মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সন্তানের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, ভালোবাসা ও অসীম ত্যাগের গল্প। একজন বাবা নিজের স্বপ্ন, আরাম-আয়েশ ও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার অনেক কিছু বিসর্জন দেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করলেও সন্তানের হাসিমুখ দেখেই তিনি ভুলে যান সব ক্লান্তি।
সন্তানের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। প্রথম হাঁটা শেখা থেকে শুরু করে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বাবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকে। অনেক সময় বাবার ভালোবাসা প্রকাশ্যে আসে না, বরং দায়িত্ব পালন, পরিশ্রম এবং নীরব আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায় তার গভীর মমতা।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। দিবসটি পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও অনেকেই মনে করেন, বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই, তবুও এ দিবস পরিবারে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, বর্তমান সময়ে একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, বরং তিনি সন্তানের বন্ধু, পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক। সন্তানদের মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন ও মূল্যবোধ গঠনে বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে প্রতিটি সন্তানের উচিত বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বাবার সান্নিধ্য সন্তানের শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের সুস্থ মানসিক ও সামাজিক বিকাশে বাবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাবা দিবসের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সোনোরা লুইস স্মার্ট ডড প্রথম বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেন। বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি ১৯১০ সালে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপন করেন। পরবর্তীতে দিবসটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, অগাধ ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে একই দিনে দুই কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্বের প্রতীক বাবা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।
ইতিহাসে পিতৃস্নেহের অসংখ্য দৃষ্টান্তের মধ্যে মোগল সম্রাট বাবরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইতিহাস অনুসারে, অসুস্থ পুত্র হুমায়ুনের সুস্থতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের জীবন উৎসর্গের প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে হুমায়ুন সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বাবর মৃত্যুবরণ করেন। পিতৃস্নেহের এই অনন্য আত্মত্যাগ বাংলা সাহিত্যে স্থান পেয়েছে কবি গোলাম মোস্তফার ‘জীবন–বিনিময়’ কাব্যে।
বাবা—মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সন্তানের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, ভালোবাসা ও অসীম ত্যাগের গল্প। একজন বাবা নিজের স্বপ্ন, আরাম-আয়েশ ও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার অনেক কিছু বিসর্জন দেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করলেও সন্তানের হাসিমুখ দেখেই তিনি ভুলে যান সব ক্লান্তি।
সন্তানের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। প্রথম হাঁটা শেখা থেকে শুরু করে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বাবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকে। অনেক সময় বাবার ভালোবাসা প্রকাশ্যে আসে না, বরং দায়িত্ব পালন, পরিশ্রম এবং নীরব আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায় তার গভীর মমতা।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। দিবসটি পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও অনেকেই মনে করেন, বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই, তবুও এ দিবস পরিবারে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, বর্তমান সময়ে একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, বরং তিনি সন্তানের বন্ধু, পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক। সন্তানদের মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন ও মূল্যবোধ গঠনে বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে প্রতিটি সন্তানের উচিত বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বাবার সান্নিধ্য সন্তানের শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের সুস্থ মানসিক ও সামাজিক বিকাশে বাবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাবা দিবসের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সোনোরা লুইস স্মার্ট ডড প্রথম বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেন। বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি ১৯১০ সালে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপন করেন। পরবর্তীতে দিবসটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, অগাধ ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;