০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক

রানা বিশ্বাস , বোয়ালখালী ।।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে জ্যোৎস্না সিংহ (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জ্যোৎস্না সিংহ ওই এলাকার উত্তম চৌধুরীর স্ত্রী।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় চা পান করছিলেন জ্যোৎস্না সিংহ। এ সময় হঠাৎ তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচে কোনো একটি প্রাণী কামড় দেয়। সেখানে দুটি রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের দেবর ও শিক্ষক মানস কান্তি চৌধুরীর অভিযোগ, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সত্ত্বেও রোগীকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তার দাবি।

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজর্ষী নাগ জানান, এটি নিশ্চিতভাবে সাপের কামড় কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোগীর শরীরে সাপের দংশনের নির্দিষ্ট ফ্যাং মার্ক (বিষদাঁতের দাগ) বা নিশ্চিত লক্ষণ না থাকায় তাকে জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা মেনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া তা প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

‘স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’-এর দুই সিনিয়র রেসকিউয়ার অয়ন মল্লিক ও আমির হোসাইন শাওন স্বজনদের বর্ণনা এবং রোগীর উপসর্গের ভিত্তিতে ধারণা করছেন, এটি পদ্ম গোখরো সাপের কামড় হতে পারে।

তাদের মতে, এ ধরনের সাপের নিউরোটক্সিক বিষ অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় দ্রুত ধরা পড়ে না। তাই রোগীর মধ্যে সাপের বিষক্রিয়ার শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে চট্টগ্রাম হয়ে উঠল “জুলুসের শহর”, জশনে জুলুসের পাঁচ দশকের ইতিহাস

বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রানা বিশ্বাস , বোয়ালখালী ।।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে জ্যোৎস্না সিংহ (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জ্যোৎস্না সিংহ ওই এলাকার উত্তম চৌধুরীর স্ত্রী।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় চা পান করছিলেন জ্যোৎস্না সিংহ। এ সময় হঠাৎ তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচে কোনো একটি প্রাণী কামড় দেয়। সেখানে দুটি রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের দেবর ও শিক্ষক মানস কান্তি চৌধুরীর অভিযোগ, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সত্ত্বেও রোগীকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তার দাবি।

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজর্ষী নাগ জানান, এটি নিশ্চিতভাবে সাপের কামড় কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোগীর শরীরে সাপের দংশনের নির্দিষ্ট ফ্যাং মার্ক (বিষদাঁতের দাগ) বা নিশ্চিত লক্ষণ না থাকায় তাকে জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা মেনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া তা প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

‘স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’-এর দুই সিনিয়র রেসকিউয়ার অয়ন মল্লিক ও আমির হোসাইন শাওন স্বজনদের বর্ণনা এবং রোগীর উপসর্গের ভিত্তিতে ধারণা করছেন, এটি পদ্ম গোখরো সাপের কামড় হতে পারে।

তাদের মতে, এ ধরনের সাপের নিউরোটক্সিক বিষ অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় দ্রুত ধরা পড়ে না। তাই রোগীর মধ্যে সাপের বিষক্রিয়ার শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;