কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড।।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ গেটসংলগ্ন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম, সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ইফতেখার আহমেদ জুয়েল।
তবে মানববন্ধনে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ২০০৫ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দায়িত্বকালেই বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ২০২৩ সালে আমি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হই।”
তিনি আরও বলেন, “কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সভাপতি পদ নিয়ে কিছু ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ চলছে। অ্যাডহক কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ইফতেখার আহমেদ জুয়েল দায়িত্বে থাকাকালে কখনো কোনো অভিযোগ তোলেননি। নতুন প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর নাম না থাকায় তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “মানববন্ধন একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। তবে মানববন্ধনের কারণে ব্যস্ততম ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খালেদ / পোস্টকার্ড ;









