০৩:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ এল. কে. সিদ্দিকীর মৃত্যুবার্ষিকী, কর্ম ও আদর্শে এখনও স্মরণীয়

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড।।

আজ ১ আগস্ট চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আবুল হাসনাত লুৎফুল কবির (এল. কে.) সিদ্দিকীর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০১৪ সালের ১ আগস্ট সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সীতাকুণ্ড হারিয়েছিল একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক অভিভাবককে, আর দেশ হারিয়েছিল একজন সৎ, দক্ষ ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ রাষ্ট্রনায়ককে।

১৯৩৯ সালের ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এল. কে. সিদ্দিকী। ১৯৬১ সালে তৎকালীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। একজন সফল প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি সততা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে রাজনীতিতেও নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম-২ (বর্তমান চট্টগ্রাম-৪) আসন থেকে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে জনগণের বিপুল সমর্থনে আরও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সেচ, পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পানিসম্পদমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির বাইরেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ার বিজয় স্মরণী কলেজ এবং সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি আগ্রাবাদ রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া সোশিও-কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮০-এর গভর্নর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি)-এর সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি ছিলেন সততা, সৌজন্য, কর্মনিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত আদর্শের জন্য সমাদৃত। ক্ষমতার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। এ কারণেই মৃত্যুর এক যুগ পরও তিনি সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে একজন আদর্শ, সৎ ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগরে তাঁর নিজ বাড়িতে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল এবং এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৌরসভা মিলনায়তনে বিকেল ৪টায় দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। পরে বাদ মাগরিব তাঁর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ রহমতনগরের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত এই বরেণ্য রাজনীতিকের কর্মময় জীবন, সততা, প্রজ্ঞা ও জনসেবার আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে মানুষ হারিয়ে গেলেও তাঁর কর্ম, অবদান ও আদর্শ সীতাকুণ্ডের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।

কাইয়ুম / খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ

অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগে সীতাকুণ্ডে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আজ এল. কে. সিদ্দিকীর মৃত্যুবার্ষিকী, কর্ম ও আদর্শে এখনও স্মরণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড।।

আজ ১ আগস্ট চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আবুল হাসনাত লুৎফুল কবির (এল. কে.) সিদ্দিকীর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০১৪ সালের ১ আগস্ট সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সীতাকুণ্ড হারিয়েছিল একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক অভিভাবককে, আর দেশ হারিয়েছিল একজন সৎ, দক্ষ ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ রাষ্ট্রনায়ককে।

১৯৩৯ সালের ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এল. কে. সিদ্দিকী। ১৯৬১ সালে তৎকালীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। একজন সফল প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি সততা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে রাজনীতিতেও নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম-২ (বর্তমান চট্টগ্রাম-৪) আসন থেকে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে জনগণের বিপুল সমর্থনে আরও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সেচ, পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পানিসম্পদমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির বাইরেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ার বিজয় স্মরণী কলেজ এবং সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি আগ্রাবাদ রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া সোশিও-কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮০-এর গভর্নর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি)-এর সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি ছিলেন সততা, সৌজন্য, কর্মনিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত আদর্শের জন্য সমাদৃত। ক্ষমতার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। এ কারণেই মৃত্যুর এক যুগ পরও তিনি সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে একজন আদর্শ, সৎ ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগরে তাঁর নিজ বাড়িতে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল এবং এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৌরসভা মিলনায়তনে বিকেল ৪টায় দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। পরে বাদ মাগরিব তাঁর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ রহমতনগরের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত এই বরেণ্য রাজনীতিকের কর্মময় জীবন, সততা, প্রজ্ঞা ও জনসেবার আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে মানুষ হারিয়ে গেলেও তাঁর কর্ম, অবদান ও আদর্শ সীতাকুণ্ডের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে।

কাইয়ুম / খালেদ / পোস্টকার্ড ;