১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন বিপর্যস্ত: প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ, স্থায়ী সমাধানের দাবি

টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং এর ফলে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকার সড়ক-ঘাট পানিতে ডুবে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, কুমিরা এবং উপকূলীয় জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা দুর্গতদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও এসএম পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নেওয়া শত শত মানুষের জন্য শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি এখন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোজাহির উদ্দিন আশরাফ ও মুরাদপুরের মোহাম্মদ আলী রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছরই তাঁদের এই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কৃষিজমি নষ্ট হওয়া এবং পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও কার্যকর স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এদিকে, দুর্যোগের শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন জানান, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে নিজস্বভাবেও খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম দায়িত্ব। আমরা প্রতিটি এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।” তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, সীতাকুণ্ডকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে দ্রুত স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আইয়্যামে জাহেলিয়তের অন্ধকার থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন প্রিয় নবী (দ.): কাগতিয়া দরবারে ৭৩তম জশ্‌নে জুলুছ মাহফিলে বক্তারা

সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন বিপর্যস্ত: প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ, স্থায়ী সমাধানের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং এর ফলে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকার সড়ক-ঘাট পানিতে ডুবে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, কুমিরা এবং উপকূলীয় জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা দুর্গতদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও এসএম পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নেওয়া শত শত মানুষের জন্য শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি এখন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোজাহির উদ্দিন আশরাফ ও মুরাদপুরের মোহাম্মদ আলী রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছরই তাঁদের এই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কৃষিজমি নষ্ট হওয়া এবং পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও কার্যকর স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এদিকে, দুর্যোগের শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন জানান, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে নিজস্বভাবেও খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম দায়িত্ব। আমরা প্রতিটি এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।” তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, সীতাকুণ্ডকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে দ্রুত স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;