০১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনার জেরে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, ঢাকা অভিমুখে তীব্র যানজট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। অবরোধ চলাকালে বিক্ষুব্ধরা মহাসড়কের ওপর বাঁশের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী লেনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো— বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাহা (১৪) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন (১৩)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে স্কুল ছুটির পর ওই দুই শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে তারা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন জানান, “আহতদের মধ্যে মুনতাহার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী নওরিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে নেমে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা কপিল, আকবর ও আশরাফসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া অংশে সড়ক ঘেঁষে অবৈধভাবে বিশাল বাঁশের গাদা বা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এই অবৈধ বাধার কারণেই আজ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের পাশে রাখা সেই অবৈধ বাঁশগুলো টেনে এনে মহাসড়কের ওপর স্তূপ করেন এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢাকা অভিমুখী লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সীতাকুণ্ড অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)

সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনার জেরে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, ঢাকা অভিমুখে তীব্র যানজট

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। অবরোধ চলাকালে বিক্ষুব্ধরা মহাসড়কের ওপর বাঁশের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী লেনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো— বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাহা (১৪) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরিন (১৩)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে স্কুল ছুটির পর ওই দুই শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে তারা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন জানান, “আহতদের মধ্যে মুনতাহার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী নওরিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে নেমে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা কপিল, আকবর ও আশরাফসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া অংশে সড়ক ঘেঁষে অবৈধভাবে বিশাল বাঁশের গাদা বা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এই অবৈধ বাধার কারণেই আজ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের পাশে রাখা সেই অবৈধ বাঁশগুলো টেনে এনে মহাসড়কের ওপর স্তূপ করেন এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢাকা অভিমুখী লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সীতাকুণ্ড অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;