১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামে ‘অফিসার’, বাস্তবে অবহেলিত এক পেশা—মানসিক চাপ আর নিরন্তর ছুটে চলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের জীবন

কাইয়ুম চৌধুরী

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বা মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার—নামের সঙ্গে ‘অফিসার’ শব্দটি থাকলেও বাস্তবতায় দেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী অথচ অবহেলিত পেশাজীবীদের অন্যতম তারা। পরিচয়ে অফিসার, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম, চাপ, অপমান আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই কাটে তাদের প্রতিটি দিন।

দেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করা BSc, MSc কিংবা ফার্মেসি বিষয়ে ডিগ্রিধারী অসংখ্য তরুণ-তরুণী এই পেশায় যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং পেশাগত আচরণ—সবদিক থেকেই তারা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। কিন্তু বাস্তব কর্মজীবনে সেই যোগ্যতার তুলনায় সম্মান ও স্বীকৃতি অনেকটাই অপ্রতুল।

সকালে অফিসিয়ালি কাজ শুরু হয় ৮টায়, কিন্তু শেষ কখন—তার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। অনেকের দিন শেষ হয় রাত ১০টা, ১১টা, কখনও মধ্যরাতেও। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, যানজট কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা—কোনো কিছুই তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারে না।

একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে প্রতিদিন ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার, ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও রোগীর স্বজন—সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। দিনের পর দিন শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, প্রত্যাখ্যান কিংবা অপমান সহ্য করেও মুখে হাসি ধরে রাখতে হয় তাদের।

COVID-19 pandemic–এর সময় যখন অনেকেই ঘরে অবস্থান করছিলেন, তখনও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতে মাঠে ছিলেন এই পেশাজীবীরা। নতুন ওষুধ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

দুঃখজনকভাবে সমাজের একটি অংশ এখনো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভুলভাবে মূল্যায়ন করে। অনেক সময় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাদের ‘দালাল’ বলে অবজ্ঞা করা হয়। অথচ বাস্তবতা হলো, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন ওষুধ, গবেষণা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের Pharmaceutical Science ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা এবং নীতিমালাভিত্তিক কর্মব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সময়ের দাবি—মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের শুধু বিক্রয়কর্মী হিসেবে নয়, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা। তাদের জন্য সরকার-স্বীকৃত কর্মঘণ্টা, পেশাগত সুরক্ষা এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উপকৃত হবেন তারা, উপকৃত হবে সামগ্রিক

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সিপিডিএলে ‘ট্রান্সফরমেশন থ্রু বিজনেস ইনোভেশন’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত

নামে ‘অফিসার’, বাস্তবে অবহেলিত এক পেশা—মানসিক চাপ আর নিরন্তর ছুটে চলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের জীবন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

কাইয়ুম চৌধুরী

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বা মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার—নামের সঙ্গে ‘অফিসার’ শব্দটি থাকলেও বাস্তবতায় দেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী অথচ অবহেলিত পেশাজীবীদের অন্যতম তারা। পরিচয়ে অফিসার, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম, চাপ, অপমান আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই কাটে তাদের প্রতিটি দিন।

দেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করা BSc, MSc কিংবা ফার্মেসি বিষয়ে ডিগ্রিধারী অসংখ্য তরুণ-তরুণী এই পেশায় যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং পেশাগত আচরণ—সবদিক থেকেই তারা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। কিন্তু বাস্তব কর্মজীবনে সেই যোগ্যতার তুলনায় সম্মান ও স্বীকৃতি অনেকটাই অপ্রতুল।

সকালে অফিসিয়ালি কাজ শুরু হয় ৮টায়, কিন্তু শেষ কখন—তার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। অনেকের দিন শেষ হয় রাত ১০টা, ১১টা, কখনও মধ্যরাতেও। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, যানজট কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা—কোনো কিছুই তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারে না।

একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে প্রতিদিন ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার, ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও রোগীর স্বজন—সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। দিনের পর দিন শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, প্রত্যাখ্যান কিংবা অপমান সহ্য করেও মুখে হাসি ধরে রাখতে হয় তাদের।

COVID-19 pandemic–এর সময় যখন অনেকেই ঘরে অবস্থান করছিলেন, তখনও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতে মাঠে ছিলেন এই পেশাজীবীরা। নতুন ওষুধ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

দুঃখজনকভাবে সমাজের একটি অংশ এখনো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভুলভাবে মূল্যায়ন করে। অনেক সময় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাদের ‘দালাল’ বলে অবজ্ঞা করা হয়। অথচ বাস্তবতা হলো, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন ওষুধ, গবেষণা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের Pharmaceutical Science ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই পেশাজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা এবং নীতিমালাভিত্তিক কর্মব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সময়ের দাবি—মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের শুধু বিক্রয়কর্মী হিসেবে নয়, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা। তাদের জন্য সরকার-স্বীকৃত কর্মঘণ্টা, পেশাগত সুরক্ষা এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উপকৃত হবেন তারা, উপকৃত হবে সামগ্রিক

খালেদ / পোস্টকার্ড ;