দীর্ঘদিনের ত্রাস ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এল চট্টগ্রামের বিতর্কিত এলাকা জঙ্গল সলিমপুর। এক সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য এবং ‘স্টেট উইথিন স্টেট’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ জনপদে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যৌথ বাহিনীর এই বিশাল অভিযানে কোনো ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি জনপদ ছিল যেখানে দেশের প্রচলিত আইন চলত না। সন্ত্রাসীরা সেখানে নিজেদের মতো করে জমি বরাদ্দ দিত, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিত এবং নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তুলেছিল। তারা সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের সম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না।”
তিনি জানান, নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত অভিযানের ফলে কোনো রক্তপাত ছাড়াই এলাকাটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে।
জেলা প্রশাসক জানান,জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে এখন সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এই এলাকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে,
অবকাঠামো উন্নয়ন:
নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা কারাগার, র্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ:
সেখানে বসবাসরত নিরপরাধ ও অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্প, হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি অফিস স্থাপন:
জমি সংক্রান্ত সিন্ডিকেট ও অবৈধ দখলদারিত্ব চিরতরে বন্ধ করতে সলিমপুরে একটি ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যার কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে।
আইনগত পুনর্বাসন:
প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে আইনানুগ কাঠামোর মধ্যে পুনর্বাসনের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করেছেন যে, এখন আর সেখানে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ নেই। সাধারণ মানুষ এখন ভয়মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারছেন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পর সলিমপুরের পরিবেশে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই জনপদ হবে চট্টগ্রামের অন্যতম পরিকল্পিত ও নিরাপদ এলাকা।”
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















